বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান

৬ই অক্টোবর, ২০১৯ || ০৩:৫৭:৪৮
32
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৬২ সালে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়ায়। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট থেকে। এমবিএ ডিগ্রীও অর্জন করেছেন ফিন্যান্সে। অনেক উচ্চ মর্যাদার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ট্রেনিং কোর্স, সেমিনার এবং সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। অর্জন করেছেন প্রভূত অভিজ্ঞতা, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে। উচ্চতর প্রকৌশল জ্ঞান ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় অনন্য সাধারণ দক্ষতায় সমৃদ্ধ তাঁর কর্মজীবন।

পেশাগত জীবনের শুরু বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচের রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে। প্রায় দুই দশকব্যাপী বাংলাদেশ রেলওয়েতে স্থাপন করেছেন পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০০৬ সালে উপ-সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদায়ন। ২০০৮ সালে নিয়োগ বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগে, উপ-সচিব (উন্নয়ন) হিসেবে। এরপর পদোন্নতি পান যুগ্ম-সচিব হিসেবে ২০১২ সালে এবং নিয়োগপ্রাপ্ত হন বিদ্যুৎ বিভাগেই। যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) হিসেবে বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ সংক্রান্ত প্রায় সকল উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ, সমন্বয় ও পরিবীক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন অব্যাহত উদ্যমে আর গভীর নিষ্ঠায়। ২০১৫ সালে পদোন্নতি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে এবং নিয়োগ বিদ্যুৎ বিভাগেই। এই বিভাগেই কাজ করেছেন ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) পদে। বিদ্যুৎ খাতের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় সরকারি খাতে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট ও কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) অর্থাৎ টার্নকি প্রকল্প, বেসরকারি খাতে ভাড়াভিত্তিক (রেন্টাল, কুইক রেন্টাল) এবং ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ ও বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎখাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সরাসরি সক্রিয় ছিলেন ভারত, নেপাল, ভুটান ও মায়ানমার থেকে বিদ্যুৎ আমদানী সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে, গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানীর কাজে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি চাচা আবু জাফর সিদ্দিকীর সঙ্গে সম্প্রতি এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেন

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২ থেকে ১ নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত আশুগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন কোম্পানী লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ১৩ মে, ২০১৩ থেকে ৭ নভেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত বিদ্যুৎখাতে দেশের প্রথম পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) হিসেবে গঠিত ইউনাইটেড আশুগঞ্জ এনার্জি লিমিটেডের বোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালন করেছেন দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানী লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে এপ্রিল ২০১৩ থেকে অক্টোবর ২০১৫ পর্যন্ত; এপ্রিল ২০১৩ থেকে এপ্রিল ২০১৭ পর্যন্ত কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেডের বোর্ডের পরিচালক; বিদ্যুৎখাতে প্রথম বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কর্পোরেশন (এনটিপিসি) লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশীপ পাওয়ার কোম্পানী (প্রাঃ) লিমিটেডের বোর্ডের পরিচালক। ২০ মে, ২০১৩ থেকে অক্টোবর ২০১৫ পর্যন্ত; ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানী অব বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক, ১৬ জুন, ২০১৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭; ৫ আগষ্ট, ২০১৫ থেকে ২৯ এপ্রিল, ২০১৭ পর্যন্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে।

এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সী (ইসিএ) সাহায্যপুষ্ট বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দরকষাকষি ও চূড়ান্তকরণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ভারত, মালয়েশিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে কতিপয় বৃহৎ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত আলোচনায় সংশ্লিষ্ট থেকেছেন এবং অংশ নিয়েছেন অনেক সার্ক ও বিম্‌সটেক এনার্জি গ্রুপের সভায়। মোঃ আনোয়ার হোসেন ৩০ এপ্রিল, ২০১৭ থেকে সচিব হিসেবে নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে। এ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথেই তিনি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্ট, রাশান ফেডারেশন সরকারের সঙ্গে আন্তঃরাষ্ট্রীয় ঋণ চুক্তি, প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এবং স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল রাশান ফেডারেশনে ফেরৎ দেয়া সংক্রান্ত চুক্তি প্রণয়ন ও চূড়ান্তকরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র–রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় কংক্রিট ঢালাই (FCD) যথাক্রমে ৩০ নভেম্বর ২০১৭ এবং ১৪ জুলাই ২০১৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ অদম্য গতিতে এগিয়েই চলেছে।