বছরে ৩শ’কোটি টাকার ব্যবসা ফেসবুককেন্দ্রিক

7
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
সময়ের সাথে দেশে বাড়ছে ফেসবুক কেন্দ্রীক ব্যবসা বা এফ কমার্স। বছরে যার আকার ছাড়িয়েছে ৩শ’ কোটি টাকা। তবে এ খাতের প্রসার হওয়ার সাথে সাথে বেড়েছে ক্রেতা অভিযোগও। ক্রেতার স্বার্থ সুরক্ষায় এখনও তৈরি করা সম্ভব হয়নি কোনো নীতিমালা। অন্যদিকে এই খাতে কর বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা। ক্রেতা সুরক্ষা দিতে ফেসবুক নির্ভর ব্যবসায়ীদের নিবন্ধনের পরামর্শ বেসিসের।

বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক জেসমিন সুলতানা। করোনার শুরুতেই হারান চাকরি। কঠিন হয়ে পড়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকা। তখনই সিদ্ধান্ত নেন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ডু্বে থাকা ফেসবুককেই করবেন উপার্জনের মাধ্যম। খোলেন নিজের অনলাইন খাবার পেজ।

তিনি বলেন, যখন চাকরি করতাম তখন প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট টাকা হাতে পেতাম। এখন তো ইনকাম নেই। তাই যখন অল্প কিছু টাকাও পায় তখন খুব আনন্দিত হই।

খাবার থেকে শুরু করে পোশাক, গৃহসজ্জা কিংবা জুতা প্রায় সবই এখন মিলছে ফেসবুকের পাতায়। দোকান ভাড়া এবং শ্রম খরচ না থাকায় অনেকেই ঝুঁকছেন এই ব্যবসায়। যেখানে পুঁজিও লাগছে তুলনামূলক কম। বেসিস এর হিসাবে দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারি প্রায় ৮৪ লাখ। এর মধ্যে ব্যবসায়ী তিন লাখের ওপরে। যাদের অর্ধেকই নারী।

আর এই প্ল্যাটফরম কেন্দ্রিক ব্যবসা ৩১২ কোটি টাকার বেশি। আগামী তিন বছরে তা হতে পারে দ্বিগুণ। তবে বিস্তৃতির ক্ষেত্রে এখনো বড় বাধা কম গতির ইন্টারনেট।

বেসিসের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, সুলভ মূল্যের ইন্টারনেট সারাদেশে যদি ছড়িয়ে দিতেও না পারি তাহলে গ্রামের মানুষরা কমার্সের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না ভালো করে। এতে আমরা যে বড় একটি প্রসার আশা করছি সেটিতে বাধা আসবে।

জনপ্রিয়তা বাড়লেও সময়ের সাথে পণ্যের মান নিয়েও অভিযোগ বড় হচ্ছে ফেসবুক কেন্দ্রিক ব্যবসায়। যা সুরক্ষায় নেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। সেই সাথে বিজ্ঞাপন দেয়ার ক্ষেত্রে এনবিআরের ২৫ শতাংশ কর ব্যবস্থা খরচ বাড়াচ্ছে উদ্যোক্তাদের। যাকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বলেন, ই-ক্যাপ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের সাথে রেজিস্ট্রেশন করার দরকার রয়েছে। বিভিন্ন রেইটিংও করা যেতে পারে। যার মাধ্যেমে ক্রেতারা উপকৃত হতে পারে।

ফেসবুকসহ দেশের সব ই-কমার্সের বাজার প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।