বিদায় বেলায় ইরানের বিরুদ্ধে শেষ পেরেক ঠুকলেন ট্রাম্প!

2
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ আর মাত্র দুই মাস। ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন।

ওই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গতকাল নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের প্রযুক্তিমন্ত্রী সাইয়্যেদ মাহমুদ আলাভি ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রধান সাইয়্যেদ পারভেজ ফাত্তাহসহ মোট নয় ব্যক্তি এবং সেইসাথে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অজুহাতে একটি জাহাজসহ দেশটির ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ইরানের প্রযুক্তিমন্ত্রীকে নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, শিল্প ও তেল শোধনার কাজে ইরানের দরিদ্র মানুষের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দায়ে দশটির বহু কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক টুইটবার্তায় দাবি করেছেন, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টায় কাজ হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্রাম্প সরকার ইরানকে নতজানু করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও তারা নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের সে আশা পূরণ হবে বলে মনে করছে। কিন্তু খোদ পাশ্চাত্যের বিশ্লেষকরাই বলছেন, ইরানের ব্যাপারে মার্কিন সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শুধুমাত্র চরম বিদ্বেষ চরিতার্থ করার জন্যই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চলেছেন। মার্কিন বিশ্লেষক ইশান তারোর দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের নীতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার সময় হয়ে এলেও তিনি নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন এই আশায় যে ইরান আলোচনায় ফিরে আসবে এবং ইরান আমেরিকার কঠিন শর্ত মেনে নেবে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য মার্কিন ডেমোক্রেট দলের ৭৫জন সদস্য এক চিঠিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রবল চাপ সত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অবস্থানে অটল রয়েছেন। এমনকি ইরানে ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা বলবত রেখেছে।

তবে ইরান মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের যে মিশন চালিয়েছেন তা এখন সর্বোচ্চ ব্যর্থতায় পৌঁছেছে।