ইউরোপজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই এবার বার্ড ফ্লু

1
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
ইউরোপজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই এবার বার্ড ফ্লুর উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এমনিতেই কোভিডের কারণে ব্যবসা বাণিজ্যে ধস। এবার নতুন করে ধস নেমেছে পোল্ট্রি খাতে। ফ্রান্সে দেখা দিয়েছে বার্ড ফ্লু। ডেনমার্কেও একই অবস্থা। দেশ দুটিতে কয়েক হাজার মুরগি হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

তাছাড়া জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় মেক্লেনবার্গ-ভরপোমার্ন অঙ্গরাজ্যের একটি খামারে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়। এর কারণে খামারটির কয়েক হাজার মুরগি হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বার্ড ফ্লু সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বন্যপাখি থেকে সেখানে এ ভাইরাস ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ল্যান্ডক্রেইস রোস্টক অঞ্চলে সম্প্রতি একটি মুরগির খামারে বার্ড ফ্লু’র প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে। আর তারপরই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, ওই খামারে এইচ-৫, এন-৮ ধরনের বার্ড ফ্লু’র উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। 

খামারটিতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মুরগি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেগুলিকে আগে মারা হবে। ওই খামারেরই আরও বেশ কিছু শাখা রয়েছে। সব মিলিয়ে খামারের প্রায় ৭০ হাজার মুরগিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় প্রশাসনের একজন জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ আতঙ্ক তার মধ্যে বার্ড ফ্লু’র বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং এই সমস্যা আরও ছড়িয়ে পড়া আটকাতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে ৭০ হাজার মুরগি মারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশু চিকিৎসকদের মতে, বিভিন্ন স্থানে থাকা খামারটির প্রায় ৭০ হাজার মুরগি মেরে ফেলাটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ।

উল্লেখ্য, করোনার এতদিন পরেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হয়েছে। তারই মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপের নানা দেশে বার্ড ফ্লু’র প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বন্য কোন পাখির মাধ্যমেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। 

তবে চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এই বার্ড ফ্লু মানুষের জন্য খুব একটা ঝুঁকিপূর্ণ নয় এখনও পর্যন্ত। এর আগেও বার্ড ফ্লু’র ভাইরাস পাওয়ার কারণে জার্মানির অন্য আরেকটি খামারের প্রায় ১৬ হাজার টার্কিকে মেরে ফেলা হয়েছিল। গত সোমবার (১৬ নভেম্বর) স্থানীয় প্রশাসন এমনই তথ্য সামনে আনে।

তবে শুধু জার্মানি নয়, ডেনমার্কেও একই ধরনের বার্ড ফ্লুর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার প্রশাসন। এরপরই কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রায় ২৫ হাজার মুরগি মেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত তিন মাস ধরে ডেনমার্ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে পোলট্রি ও ডিম পাঠানোও বন্ধ রয়েছে। 

একই পরিস্থিতি নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সেরও। ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি খামারের ১৩ হাজার পাখি মেরে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই একই কারণে।