কুষ্টিয়ায় তিন কার্যদিবসে ছাত্রী ধর্ষণের রায়, মুহতামিমের আমৃত্যু কারাদণ্ড

8
মিরপুরের স্বরূপদহ (চকপাড়া) গ্রামের সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেসা মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল কাদেরকে আজ ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় জেলা জজ আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় অভিযোগ গঠনের পর মাত্র তিন কার্যদিবসে একটি ধর্ষণ মামলার যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন আদালত। জেলার মিরপুর উপজেলার স্বরূপদহ (চকপাড়া) গ্রামের সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেসা মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল কাদেরকে ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত মাদ্রাসা ছাত্রীকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার মাত্র ৪৪ দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান জনাকীর্ণ আদালতে যুগান্তকারী এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল কাদের আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর ভোর ৫টায় মাদ্রাসার এক আবাসিক ছাত্রীকে নিজের অফিস কক্ষে ডেকে ধর্ষণ করেন মুহতামিম। একই দিন রাত ৮টার দিকে আবারও ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন মুহতামিম আব্দুল কাদের। মাদ্রাসার আরেক ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেলে। তার কাছ থেকে শুনে পরের দিন ৫ অক্টোবর মেয়েকে নিয়ে মিরপুর থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা করেন বাবা।

মাত্র নয় দিনের মাথায় ১৩ অক্টোবর তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। আসামি আব্দুল কাদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামি কাদেরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত বৃহস্পতিবার ১২ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করেন। সে সময় আসামি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে মাত্র তিন কার্যদিবসে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আজ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী বলেন, ‘মাত্র তিন কার্যদিবসে ধর্ষণের এই রায় যুগান্তকারী। নতুন আইনে দ্রুততম সময়ে এই রায় দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি ধর্ষণের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’