কুষ্টিয়ায় বাবাকেই খুন করে রান্নাঘরে পুতে রাখে ছেলে!

20
Print Friendly, PDF & Email

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মেয়ের তালাকে নেয়া দেনমোহরের টাকা নিতে চাওয়ায় স্ত্রী ও ছেলের হাতেই খুন হয়েছেন ছানাউল্লাহ সানাই (৪৫) নামের এক ব্যক্তি।


বিগত তিন মাস আগে তাকে খুনের পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরের মেঝেতেই পুতে রাখা হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে রানা বিশ্বাসকে (২৪) গত বৃহস্পতিবার (২ মে) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


গত বৃহস্পতিবার সানাইয়ের লাশও তার বড়ির রান্নাঘরের মেঝে থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার স্ত্রী রানী খাতুন এবং মেয়ে সোনিয়া ও তানিয়া আত্মগোপন করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছানাউল্লাহ সানাই গত ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ নিখোঁজ হন।


তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকার কারণে তার বড় ভাই আবদুল বারিক বিশ্বাস (৬৭) খোকসা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে রানা বিশ্বাসকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নিয়ে সানাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।


নিহত সানাই কখনও দিনমজুর কখনও ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অভাবেই সংসার চালাতেন তিনি।
এ অবস্থাতেই বড় মেয়ে সোনিয়াকে বিয়ে দেন কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামে। কিন্তু আড়াই মাসের মাথায় সে সংসার ভেঙে যায়। স্থানীয়দের সহযোগীতায় সেখান থেকে দেনমোহরের ৭২ হাজার টাকা পান সোনিয়া।


পরে সোনিয়াকে কুষ্টিয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে দেন সানাই। সেখানেও সংসার টেকাতে পারেননি সোনিয়া। তালাকের পর তার দ্বিতীয় স্বামী দেনমোহরের এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে দেন।
এরপর সানাই টাকাগুলো একত্র করে তার ভায়রা ভাইয়ের (স্ত্রীর বোনের স্বামী) কাছে গচ্ছিত রাখেন।

কিছুদিন পর সানাইয়ের স্ত্রী রানী খাতুন টাকাগুলো ফেরত চাইলে তিনি নিজে রানাদের বাড়ি এসে দিয়ে যান।
এদিকে, টাকা ফেরত পাওয়ার পর সানাই তা নিজের কাছে রাখতে চাইলে বাধা দেন স্ত্রী ও সন্তানরা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সংসার চালাতে কিছু অর্থ চাইলেও রানী খাতুন তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।এ নিয়ে পরিবারে ব্যাপক অশান্তির সৃষ্টি হয়। সানাই তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধরও করেন। পরে সেদিন রাতেই রানী, সোনিয়া ও রানা মিলে তাদের বাবাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন।


পরিকল্পনা অনুযায়ীই তারা রাতে ইট ও কাঠের ছড়া দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন সানাইকে। পরে রান্নাঘর খুঁড়ে সেখানে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন। কয়েকদিন পর রানী তার মেয়ে সোনিয়া ও তানিয়াকে নিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করবেন বলে বাড়ি ছাড়েন।


খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম মেহেদী মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রানা তার বাবাকে খুনের কথা স্বীকার করে।


পরে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এম মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ লাকীকে ঘটনার তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়।


এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ লাকী জানান, স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর তারা রানাদের বাড়ির রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে সানাইয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া হাসপাতালে পাঠান।


গত বৃহস্পতিবার খোকসা থানায় সানাই হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী রাণী, দুই মেয়ে সোনিয়া-তানিয়া ও রানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। আটক রানাকে পরে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।