পাকিস্তান দলে অবাঞ্ছিত শোয়েব মালিক-মোহাম্মাদ আমির

4
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস নিউজ ডেস্কঃ
ঘোষিত হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সবশেষ স্কোয়াড। এই স্কোয়াড জন্ম দিচ্ছে অনেক প্রশ্নের। শোয়েব মালিক কি বুড়িয়ে গেছেন, ক্যারিয়ার কি শেষ? টেস্ট থেকে আকস্মিক অবসর নেয়াই কি কাল হলো মোহাম্মদ আমিরের জন্য? আসাদ শফিককেই বা বাদ দেয়া হলো কোন কারণে? নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য বাবর আজমের নেতৃত্বে ৩৫ সদস্যের বিশাল দল ঘোষণা করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক মিসবাহ উল হক। যেখানে জায়গা হয়নি আমির, মালিক ও শফিকের। কেন নেয়া হয়নি তাদের? এর ব্যাখ্যায় মিসবাহ জানিয়েছেন, পাকিস্তান এখন তারুণ্যে বিনিয়োগ করতে চাইছে।

আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আসন্ন এই তিন টি-টোয়েন্টি ও দুই টেস্টের সিরিজের সবগুলো ম্যাচেই অধিনায়কত্ব করবেন বাবর। তবে টেস্টে তার সহ-অধিনায়ক থাকবেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং টি-টোয়েন্টিতে ডেপুটির দায়িত্ব থাকবে লেগস্পিনার শাদাব খানের কাঁধে।

তারুণ্যে জোর দেয়া এ ৩৫ জনের দল অনভিষিক্ত খেলোয়াড়ের সংখ্যা মাত্র চারজন। তারা হলেন ফাস্ট বোলার আমাদ বাট, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান দানিশ আজিজ ও ইমরান বাট এবং উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান রোহাইল নাজির। সাম্প্রতিক ফর্মে নির্বাচকদের সন্তুষ্ট করায় জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন তারা।

আসাদ শফিক, মোহাম্মদ আমির ও শোয়েব মালিকদের বাদ দেয়ার ব্যাখ্যায় মিসবাহ বলেছেন, ‘ইংল্যান্ড সফর করা দল থেকে তিনজন খেলোয়াড়কে বাদ দেয়া হয়েছে। শফিকের জায়গা হয়নি ফর্মের কারণে, গত ১৫ ইনিংসে মাত্র ৫১০ রান করেছে সে। তার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ফর্ম ফিরিয়ে আনুক। জাতীয় দলে শিগগিরই ফিরবে।’

বাকি দুজনের ক্ষেত্রে তারুণ্যের দোহাই দিয়ে মিসবাহ বলেন, ‘আমির ও মালিককে রাখা হয়নি কারণ আমরা এই সফরে তারুণ্যে বিনিয়োগ করতে চেয়েছি। বিশেষ করে যেসব ইমার্জিং খেলোয়াড় তিন ফরম্যাটেই পাকিস্তানের হয়ে খেলতে পারবে। হাফিজ ও ওয়াহাবের ওপর ভরসা রেখেছি শুধুমাত্র তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে।’

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকে মাত্র ১টি টেস্ট মিস করেছেন শফিক। এর মধ্যে খেলেছেন টানা ৭২টি টেস্ট ম্যাচ। যা কি না পাকিস্তানের পক্ষে রেকর্ড। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টানা ৫৩ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল জাভেদ মিয়াদাদের। এবারের নিউজিল্যান্ড সফরে সুযোগ না পাওয়ায় নিজের রেকর্ড আর লম্বা করতে পারবেন না শফিক।

প্রায় চার বছর আগে সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফর করেছিল পাকিস্তান। সেবারের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল স্বাগতিকরা। এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু হবে দুই দলের লড়াই। আগামী ১৮, ২০ ও ২২ ডিসেম্বর হবে ম্যাচ তিনটি। এরপর দুই টেস্টের প্রথমটি শুরু বক্সিং ডে’তে (২৬ ডিসেম্বর) এবং পরেরটি ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি।

নিউজিল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দল
আবিদ আলি, আবদুল্লাহ শফিক, ফাখর জামান, ইমাম-উল-হক, শান মাসুদ, জিশান মালিক, বাবর আজম (অধিনায়ক), আজহার আলি, দানিশ আজিজ, ফাওয়াদ আলম, হায়দার আলি, হারিস সোহেল, হুসাইন তালাত, ইফতিখার আহমেদ, ইমরান বাট, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান, রোহাইল নাজির, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, শাদাব খান, উসমান কাদির, ইয়াসির শাহ, জাফর গোহার, আমাদ বাট, ফাহিম আশরাফ, হারিস রউফ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ মুসা, নাসিম শাহ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, সোহেল খান, ওয়াহাব রিয়াজ।