বগুড়ায় ভিড় করছেন ঢাকা ফেরত ডেঙ্গু রোগীরা

২৬ই জুলাই, ২০১৯ || ০৫:২৫:৩১
14
Print Friendly, PDF & Email

বগুড়া থেকে প্রতিনিধিঃ
হঠাৎ করেই বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদের মধ্যে শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ২৮ জন। অসুস্থ হয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন তারা।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব রোগীরা ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর নিজ এলাকায় গেলেও সেখান থেকে আবার ভর্তি হয়েছেন বগুড়া মেডিকেলে। এর মধ্যে অনেকে বগুড়ায় এসে পরীক্ষার পর ডেঙ্গু রোগী হিসেবে সনাক্ত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে বেশির ভাগই বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা ঢাকায় চাকরি করেন। এদের বাড়ি বগুড়া, জয়পুরহাট ও সিরাজগঞ্জ জেলায়।

শুক্রবার বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দুইজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ইব্রাহিম খলিল (৪৫) ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের সাবেক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি বগুড়ায় পরিবারের কাছে ফেরেন। বগুড়ার উপশহরে ভাড়া থাকেন তার পরিবারের সদস্যরা। বুধবার একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর রোগ সনাক্ত হলে শুক্রবার তার স্ত্রী সাবিহা সুলতানা ইব্রাহিম খলিলকে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

আরেকজনের নাম রেজোয়ান (১৮)। জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বাসিন্দা রেজোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ঢাকায় কোচিং ক্লাস করছিলেন। গত ২০ জুলাই তিনি বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের শ্রাবনী রানীও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ঢাকায় কোচিং করছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি বগুড়ায় হাসপাতালে ভর্তি হন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বগুড়ার শেরপুররের কল্যানী গ্রামের উম্মে কুলসুম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বুধবার। একই ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বগুড়ার কাহালু উপজেলার আইনুল হক এখন হাসপাতালটির বিছনায়। ২১ জুলাই জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর বগুড়ায় ফিরে ২৩ জুলাই তিনি বগুড়া মেডিকেল কলেজ হানপাতালে ভর্তি হন তিনি।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ৩২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন রোগী অন্যত্র চলে যান।

হাসপাতালটির পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল গোলাম রসুল শুক্রবার জানান, বর্তমানে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত মোট ২৮ জন চিকিৎসাধীন। এসব রোগীকে সার্বক্ষনিক মশারির মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়। ডেঙ্গু রোগ বিষয়ে চিকিৎসার জন্য যে গাইড লাইন রয়েছে সে বিষয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের চারপাশ পরিস্কার রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।