কুষ্টিয়ায় ভুয়া সনদে ৮ বছর চাকরির অভিযোগ স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে

7
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় ভুয়া সনদে দীর্ঘ ৮ বছর যাবত শিক্ষকতা করছেন বলে অভিযোগ স্কুল শিক্ষক মো. হাশেম আলীর বিরুদ্ধে। তিনি জেলার দৌলতপুর উপজেলার ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের সহকরী শিক্ষক পদে কর্মরত। সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে ওই শিক্ষকের সনদ জালিয়াতি ধরা পড়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার দৌলতপুর উপজেলার ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে মো. হাশেম আলী ২০১১ সালের ৯ জুন নিয়োগ লাভ করেন। একই বছরের ১২ জুলাই তিনি স্কুলে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১ অক্টোবর তিনি এমপিওভুক্ত হন। কিন্তু সবশেষে এটিআরসিএর জালে আটকে গেলেন ভুয়া সনদধারী ওই শিক্ষক। সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী নিবন্ধন সদন যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করা হলে এনটিআরএ যাচাই প্রতিবেদনে ওই শিক্ষকের নিবন্ধন সদনটি জাল ও ভুয়া বলে এনটিআরসি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৭ অক্টোবর এটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০২.২০ (১৯৬৭) নম্বর স্মারকে আপলোডকৃত সনদ যাচাই প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, মো. হাশেম আলী, পিতা মো. মসলেম উদ্দিন, মাতা মোছা. ইয়া খাতুন, রোল নম্বর ৩২১২৪৯৫৮, রেজিস্ট্রিশন নম্বর ১০০০০৪২৫৮০, বিগত ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ব্যাচের পরীক্ষায় প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে উত্তীর্ণ হিসাবে দাখিলকৃত নিবন্ধন সনদটি জাল ও ভুয়া। যাচাইকালে প্রকৃত সনদধারী শামিমা নার্গিস, পিতা মৃত আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, মাতা মাহমুদা বেগম শনাক্ত হন। এছাড়া শামিমা নার্গিস গণিত বিষয়ের নিবন্ধন সনদধারী বলেও এনটিআরসিএ’র প্রতিবেদন মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, জাল সনদে চাকরিরত শিক্ষক মো. হাশেম আলী এমপিওভুক্তির পর দীর্ঘ আট বছর অবৈধপন্থায় সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভুয়া ওই শিক্ষক এখনো স্বপদে রয়েছেন বহাল-তবিয়তে।

এ বিষয়ে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনুলিপি পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে জেলার কুমারখালী সরকারি কলেজের এক প্রভাষকের নিবন্ধন সনদ জালিয়াতি ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় সরকারি নির্দেশে কলেজটির অধ্যক্ষ বাদী হয়ে ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতি মামলা করেন।

ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। তবে এনটিআরসির লিখিত নির্দেশনা না আসায় এখনো ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নির্দেশনা হাতে পেলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে শিক্ষক মো. হাশেম আলীর মোবাইল ফোনে বার বার কল করে বন্ধ পাওয়া গেছে।

দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সর্দার মো. আবু সালেক জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগটি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।