আমরা শরণংকর ভিক্ষুর অপরাধের দায় নেবো না: রানা দাশগুপ্ত

4
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, চট্রগ্রাম:
শরণংকর ভিক্ষুর অপরাধের দায় নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউ মার্কেট চত্বরে দেশব্যাপী সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত শনিবারের সমাবেশে বিতর্কিত শরণংকর থেরো’র পক্ষে কিছু মানুষের ব্যানার সম্বলিত অবস্থান ও স্লোগান প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রোববার সাংবাদিকদের একথা জানান রানা দাশগুপ্ত।

সমাবেশে ‘শরণংকর থেরোকে ক্ষেপালে, তার ফল ভালো হবে না’, ‘অপমানের বদলা তুলে নিবো আমরা’– এমন প্লেকার্ড আর ব্যানার নিয়ে অবস্থান ও স্লোগান দিতে দেখা গেছে শরণংকর থেরো’র এসব অনুসারীকে। অবস্থান কর্মসূচিকে বিভক্ত করে শরণংকর সমর্থকদের আলাদা মানববন্ধন ও বক্তব্যও দিতে দেখা যায় সমাবেশে।

এ প্রসঙ্গে রানা দাশগুপ্ত বলেন, বিষয়টি আমি পরে খেয়াল করেছি। শরণংকরের পক্ষে ৮/১০ জন লোক এখানে দাঁড়িয়েছিল। আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে বকাঝকা করেছি এবং আর কখনো একটি বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে যেন না আসে সেজন্য তাদের সাবধান করে দিয়েছি।

রানা দাশগুপ্ত প্রশ্ন রাখেন, সরকারি বনবিভাগের জায়গা দখল করে কেন বৌদ্ধবিহার করতে হবে? জোরপূর্বক জমি দখল করে ধর্মের নামে অন্যায় পথে যারা হাঁটবে তাদের সাথে আমরা নেই। হ্যাঁ, ব্যাপারটি যদি এমন হতো যে অন্যায় ও অপরাধের পথে না গিয়ে তিনি (শরণংকর) ধর্মকর্ম করছেন, সন্ন্যাস জীবন কাটাচ্ছেন-সেই অবস্থায় বিনা কারণে তার প্রতি অন্যায়-অবিচার হচ্ছে তাহলে ব্যাপারটিতে আমরা কথা বলতাম। কিন্তু শরণংকরের ব্যাপারটি তো তা নয়। আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে ঢুকে কয়েকজন লোক সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেই সুযোগ আমরা তাদের দেবো না। তিনি যেই হোন না কেনো, কোনো অপরাধী, অন্যায়কারীকে আমরা কখনো প্রশ্রয় দিইনি, ভবিষ্যতেও দেবো না- বলেন এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

প্রসঙ্গত, রাঙ্গুনিয়ার ফলাহারিয়া গ্রামে বনবিভাগের প্রায় একশ’ জায়গা দখল করে নির্বিচারে গাছপালা নিধন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান ভাঙ্চুর করে জ্ঞানশরণ মহারণ্য বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা ও একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ করে দেশব্যাপী তুমুল বিতর্কের জন্ম দেন শরণংকর ভিক্ষু।

এছাড়া, ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, বন বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি সম্পর্কে মানহানিকর তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ রাঙ্গুনিয়ায় দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টায় বিভিন্নস্থানে শরণংকরের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৬টি মামলা হয়েছে।