যুবতির সঙ্গে কুষ্টিয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যানের গোপন সম্পর্ক, ফোনালাপ ফাঁস!

14
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের সঙ্গে এক যুবতির গোপন ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে জেলায়।

এদিকে, স্বামী পরিত্যক্তা ওই যুবতির সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার অনৈতিক সম্পর্কের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আব্দুল মান্নান খানের এই নৈতিক অবক্ষয় মেনে নেয়া যায় না।

অশ্লীল ফোনালাপ ছাড়াও চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের সঙ্গে রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে ওই যুবতির সময় কাটানোর একটি ছবিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই যুবতির বাড়ি একই উপজেলার ছেঁউড়িয়া মন্ডলপাড়া এলাকায়।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপ এবং ফেসবুকে ভাইরাল ছবিটি নিজের বলে স্বীকার করেছেন যুবতি। একই সঙ্গে ফোনালাপের ব্যক্তি এবং ছবির ব্যক্তি কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের বলে নিশ্চিতও করেছেন তিনি। আব্দুল মান্নান খানের সঙ্গে রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি হোটেলে একাধিকবার সাক্ষাতের এবং একান্তে সময় কাটানোর বিষয়টি অবলীলায় শিকারও করেছেন যুবতি।

যুবতি জানান, তিনি স্বামী পরিত্যক্তা। তবে বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। কিন্তু তার গর্ভের সন্তানের বাবা মান্নান খান নন। কে তার সন্তানের বাবা বিষয়টি বলতে চাননি যুবতি।

যুবতির সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আব্দুল মান্নান খানের এই নৈতিক অবক্ষয় কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

যুবতি বলেন, প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবেশী মিলন নামের এক যুবকের মাধ্যমে কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের জয়নাবাদ গ্রামের আইনজীবী আনিসুর রহমান লালের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে লালের সঙ্গে যুবতির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর কুষ্টিয়া এবং ঢাকার বিভিন্নস্থানে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেলামেশা করি আমরা।

চলতি বছরের শুরুতে আনিসুর রহমান লাল কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, তার খুব কাছের নেতা ও প্রিয় মানুষ। পরিচয়ের পর মান্নান খান আমার প্রতি আসক্ত হন। এরপর থেকে চলতে থাকে দিনের পর দিন মুঠোফোনে কথোপকথন।

যুবতি বলেন, পরিচয় হওয়ার পর আমি এবং আব্দুল মান্নান খান রাজধানীর একটি হোটেলে বেশ কয়েকবার দেখা করেছি এবং একান্ত সময়ও কাটিয়েছি।

আব্দুল মান্নান খানের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও কিভাবে ছড়িয়ে পড়ল জানতে চাইলে যুবতি বলেন, আনিসুর রহমান লাল আমার মোবাইলের মেমোরি কার্ড বের করে নিয়ে যান। এরপরে এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ঢাকার হোটেলে অবস্থানের ছবিটিও লাল আমার অজান্তে গোপনে ধারণ করেন।

এদিকে, অডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনায় আব্দুল মান্নান খান স্থানীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। দলীয় কর্মসূচিতে তাকে দেখা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগ নেবে না। এর দায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই নিতে হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।