‘পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, পুলিশ সাক্ষী হতে বলেছে তাই সই করেছি’

4
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
‘জরুরী কথা আছে’- বলে এক যুবককে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার দেখিয়ে মামলা দিয়েছে কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশ। এ অভিযোগ ভূক্তভোগী নাজমুল ইসলামের পরিবারের।

কুষ্টিয়া সদরের রাজাপুরের কমেদ আলী মণ্ডলের ছেলে নামজুল ইসলাম (৩৭)। থাকেন কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে। বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে মালামাল সরবরাহের কাজ করেন। নাজমুল একজন বিএনপি সমর্থক। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(চ) ধারায় ডিবি পুলিশের করা অস্ত্র মামলায় এখন কারাগারে আছেন তিনি।

ডিবি পুলিশের এসআই আমিরুল ইসলামের (নিরস্ত্র) বাদী হয়ে করা মামলার তথ্যমতে, নাজমুলকে গত ৩১ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টায় মজমপুরে দাদাপুর রোড সংলগ্ন সালাম হার্ডওয়ারে দোকানের পিছনে জনৈক মমিনের বন্ধ দোকানের দক্ষিণের ফাঁকা জায়গা থেকে ডেগারসহ আটক করে।

তবে, নাজমুল ইসলামের স্ত্রী গোলাপী বেগম অভিযোগ করে জানিয়েছেন, একটি মেয়েলি ঘটনায় বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী একটি মহল নাজমুলকে শায়েস্তা করতেই নাটক সাজিয়ে এসব করছেন। আসলে নাজমুলকে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাটাইখানা মোড় এলাকায় ডিবি পুলিশের এএসআই যোবায়ের জরুরী কথা আছে বলে মোটরসাইকেলে করে নিজেদের অফিসে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে সামান্য ডেগার দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

তবে, এ ঘটনা অস্বীকার করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই যোবায়ের। নাজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে পুলিশ লাইনের সামনে হাজীর গলিতে জনৈক আশরাফ হাজীর বাড়িতে এএসআই যোবায়ের এবং নাজমুল একই বিল্ডিং এ ভাড়া থাকতেন। সেখানেও তাদের মধ্যে ওই একই মেয়েলি ঘটনা নিয়ে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে এএসআই যোবায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভাল।

অন্যদিকে, ডিবি পুলিশ মামলা এবং জব্দ তালিকায় যে তিনজন সাক্ষী রেখেছেন তার দুজন স্থানীয়। তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে এ প্রতিবেদকের।

মোটর ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ বলেন, রেলের পাশে তাকে ধরতে দেখেছি। তার কাছে কী কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, যা যা দেখেছি তা কাগজে লেখা আছে। অস্ত্র দেখেছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি চুপ হয়ে যান।

অপরজন জেলা বাস মালিক গ্রুপের কর্মী মাহফুজ উদ্দিন মনো বলেন, পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম পুলিশ সাক্ষী হতে বলেছেন তাই সই করেছি। অস্ত্র ছিলো কি-না তা খেয়াল করিনি।