সবাই যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, দেশে কোনো দারিদ্র্য থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

1
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
দেশের বিত্তবান লোকদের নিজ নিজ এলাকায় সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে সেই অঞ্চলের লোকেরা আরো উন্নত জীবন লাভ করতে পারবে। একা ভালো থাকা মোটেও মানবিকতা নয়।’ এ সময় সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘মুজিববর্ষে গৃহহীন মানুষদের ঘর উপহার’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তবে দেশে কোনো দারিদ্র্য থাকবে না।’

সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবরা গৃহহীন মানুষদের ঘর সরবরাহের একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) গৃহহীন মানুষদের মধ্যে ১৬০টি ঘর হস্তান্তরের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে বক্তৃতায় বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে এবং আরো হ্রাস করতে চায়। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তবে করোনাভাইরাসের কারণে এটি করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী এবং তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের কাছ থেকে তাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। আমরা বিজয়ী জাতি এবং বিজয়ী হয়েই বিশ্ব অঙ্গনে চলব। আমরা এ সম্মান অর্জন করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষে গৃহহীন মানুষদের বাড়িঘর সরবরাহের জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। আমরা মুজিববর্ষে দেশের প্রতিটি বাড়ি আলোকিত করার উদ্যোগ নেব, আমরা সেদিকে পরিকল্পনা নিয়েছি এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কাজও করছি।’

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার এখন সকলের পুষ্টি নিশ্চিতের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও অন্যান্যের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি এক ইঞ্চি জমিও ফেলে না রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। সরকার দেশজুড়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে জনকল্যাণে সরকারের নেওয়া অনেক উদ্যোগ স্থগিত রয়েছে। তবে সরকার কাজ করছে, গ্রামীণ অঞ্চলে আর্থিক সহায়তা যাতে পৌঁছতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের মানুষের জন্য কাজ করা আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য, কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমি আমার জীবনের সবকিছু হারিয়েছি। এই দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে সেটা হবে আমার জীবনের সাফল্য। আমি কখনই ভাবিনি যে আমি কী অর্জন করেছি বা পাইনি। দেশের মানুষকে আমি কী দিতে পারলাম, সেটাই আমার কাছে আসল।’