করোনার ভ্যাকসিন ট্রায়াল: ব্রাজিলে স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু

20
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ
আস্ট্রাজেনেকাস কোম্পানীর পরীক্ষামূলক করোনা ভ্যাকসিন ট্রায়ালে মারা গেছেন ব্রাজিলের এক স্বেচ্ছাসেবক। বুধবার (২১ অক্টোবর) ব্রাজিলের স্বাস্থ্য সংস্থা আনভিসা তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে এজন্য ট্রায়াল বন্ধ করা হবেনা। স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যুর সাথে ভ্যাকসিনের কোনো সংযোগ নেই বলেও দাবি করছে তারা।

আনভিসা বলছে, সোমবার মারা গিয়েছিলেন সেই স্বেচ্ছাসেবক। মৃত্যুর কারণ জানতে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন ও সুরক্ষা কমিটি ট্রায়াল চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েই সুপারিশ করে।

তবে মেডিকেল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে করোনা ভ্যাকসিন ট্রায়ালের কোন পর্যায়ে ছিলেন সেই স্বেচ্ছাসেবক তা প্রকাশ করেনি আনভিসা।

রিওতে ক্লিনিকাল ট্রায়াল পরিচালনাকারী ডিওর ইনস্টিটিউট থেকে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন বা একটি প্লাসবো গ্রহণ করেছেন ৮,০০০ স্বেচ্ছাসেবক।

এক বিবৃতিতে ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ‘এখন পর্যন্ত সমস্ত ডাটা কঠোর বিশ্লেষণ করে ট্রায়ালের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সন্দেহ দেখা দেয়নি। এ কারণেই ট্রায়াল চালিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ভ্যাকসিন নির্মাতা আস্ট্রাজেনেকা’র মুখপাত্র অবশ্য সেচ্ছাসেবীর মৃত্যু নিয়ে বিশেষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন এই পরীক্ষা থামানো বা বিরতি দেওয়ার মতো কিছুই ঘটেনি।

মূখপাত্র বলেছেন, ‘চলমান ট্রায়াল সম্পর্কে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারিনা। কারণ আমরা চিকিৎসা গোপনীয়তা এবং ক্লিনিকাল ট্রায়াল বিধিবিধানগুলো কঠোরভাবে মেনে চলি, তবে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এখানে অনুসরণ করা হয়েছে।’

ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলিতে স্বেচ্ছাসেবীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন বা যে কোনও কারণে মারা যেতে পারেন। মৃত্যুর কারণ ভ্যাকসিনের সাথে সম্পর্কিত নাও হতে পারে।

ব্রিটেনস ইউনিভার্সিটি অব রিডিংসের ভাইরোলজির অধ্যাপক আয়ান জোনস বলেন, ‘বিশদ বিবরণ ছাড়া আসলে কি ঘটেছিল তা জানা অসম্ভব। তবে পর্যালোচনা থেকে ধারণা করা যায় ভ্যাকসিনের কারণে তার মৃত্যুর সম্ভাবনা ক্ষীণ।’