ধর্মকে কটাক্ষের দায়ে শরনংকর ভিক্ষুর গ্রেপ্তার দাবি: জাতীয় মসজিদে ওলামাদের বিক্ষোভ

১৬ই অক্টোবর, ২০২০ || ০৭:২৪:১৯
17
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
আল্লাহ ও রাসুলকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মবিদ্বেষী প্রচার, বলপ্রয়োগে শ্মশানঘাট ও বনভূমি দখলের দায়ে চট্টগ্রামের কথিত ভিক্ষু শরণংকরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন দেশের আলেম-ওলামাবৃন্দ।

শুক্রবার জুম্মা’র নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ ফটকে বাংলাদেশ সংগ্রামী ওলামা পরিষদ আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে শরণংকরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

জিপিও’র মোড়ে এসে মিছিলটি সমাবেশে পরিণত হলে সেখানে সংগ্রামী ওলামা পরিষদ সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো: ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ভন্ড সাধু শরণংকর শুধু ইসলামেরই শত্রু নয়, লোভ চরিতার্থ করতে সে সেখানকার হিন্দু শ্মশানঘাটও দখল করেছে। সংরক্ষিত বনভূমির পঞ্চাশ একর জায়গা বৌদ্ধ বিহারের নামে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে দখল করে সে ধর্মীয় উস্কানিমূলক প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছে, যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মগুরুরাও।’

‘আল্লাহ ও রাসুলকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্য শরণংকর তার অনুসারীদের মাধ্যমে প্রচার করছে, যা প্রকৃতপক্ষে দাঙ্গা বাধানোর উস্কানি’ উল্লেখ করে মাওলানা ইসমাইল বলেন, তার এইসব পোস্ট আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।

মাওলানা মোহাম্মদ ওমর ফারুক ও মাওলানা মুফতি হারুন রশিদ এবং অন্যান্য বক্তরা বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ফলহারিয়া গ্রামের শরণংকর থেরো প্রচন্ডভাবে ভিন্ন ধর্মবিদ্বেষী, ধর্ম অবমাননাকারী ও ধর্মীয় উস্কানির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রকারী। অবৈধভাবে বনভূমি দখল, গাছপালা ও পাহাড় কাটা, ধর্ম অবমাননা, ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য, হিন্দু মন্দির ও শ্মশান দখলের অভিযোগে শরণংকর থেরো’র বিরুদ্ধে বনবিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ১৪টি মামলা দায়ের করেছে। কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারের ওয়ারেন্টও জারি হয়েছে। আমরা এ অসাধু ভিক্ষুর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

‘ধর্মের নামে ভয়ংকর অপরাধী শরণংকরের গ্রেফতার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, হাজার বছর ধরে যে আন্ত:ধর্ম সম্প্রীতি এদেশে বজায় রয়েছে রাঙ্গুনিয়ার এক অসাধু ভিক্ষু’র কারণে তা নষ্ট হতে দেব না’ ঘোষণা দেন তারা।

আলেম-ওলামা নেতৃবৃন্দের মধ্যে মাওলানা মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, মাওলানা মুফতি সাইফুল্লাহ সাদী, হাফেজ মাওলানা মুফতি বশির উদ্দিন, মাওলানা মুফতি মনিরুজ্জামান, মাওলানা মো: আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মো: জহিরুল ইসলাম প্রমুখ সমাবেশে যোগ দেন।

এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বী ঐক্যপরিষদ ও মুসলিম নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমাবেশ ও মানববন্ধনে আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই শরনংকরের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছিলেন।