কাঁচাবাজারে সব ধরনের শাক-সবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে ডিম-আলু ও কাঁচা মরিচের

১৬ই অক্টোবর, ২০২০ || ০৩:৩১:১৫
8
Print Friendly, PDF & Email

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির রাজধানীর কাঁচাবাজার। সব ধরনের শাক-সবজির দামই অস্বাভাবিক। বেশিরভাগ সবজির কেজিই ১০০ টাকার কাছাকাছি। কোনোটার দাম ৭০, কোনটা ৮০, আবার কোনটা ৯০ টাকা কেজি। সবজির এমন চড়া বাজারে নতুন করে দাম বেড়েছে ডিম-আলু ও কাঁচা মরিচের। নিত্যপণ্যের বাজারের এ ঊর্ধমুখী অবস্থায় দিশেহারা ক্রেতারা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকার ৩০ টাকা আলুর দাম বেঁধে দিলেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তা মানছেন না। আলুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারাদের মাঝে বসচাও হচ্ছে কোথাও কোথাও।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে। প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কয়েকদিন আগেও ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ আজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় আজ শুক্রবার কেজিতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে ১২০ টাকা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে।

এদিকে শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও বরবটির সঙ্গে নতুন করে ১০০ টাকা কেজির তালিকায় নাম উঠেছে উস্তের। এর মধ্যে পাকা টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আর উস্তের কেজি ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। বরবটির কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়। বেগুনও গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

শুধু এই ছয় সবজি নয়, বাজারে অন্য সবজিগুলোও স্বস্তি দিচ্ছে না। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। একেকটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। বাজারে নতুন আসা ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে মুলা ও পেঁপে। এর মধ্যে মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়।

এদিকে, স্বস্তি মিলছে না পেঁয়াজের দামেও। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আমদানি করা বড় আকারের ভারতীয় পেঁয়াজের কেজির জন্যেও গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। গত মাসে ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এমন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের বিষয়ে দুলাল মোল্লা নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দেশে সবজির এত দাম দেখিনি। ১০০ টাকার সবজি দিয়ে এক বেলাও হয় না। বাজারে এলে মাথা ঠিক থাকে না। অনেক দিন ধরেই সবজির দাম চড়া। এর মধ্যেই তেল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম বেড়ে গেল। আগে কখনো গোল আলুর কেজি ৪০ টাকা কিনে খাইনি। এখন আলু ৪৫-৫০ টাকায় কিনে খেতে হচ্ছে। এক পোয়া কাঁচামরিচ কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকা দিয়ে। ৫০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। সবকিছুর দাম এমন হলে আমরা চলব কীভাবে?’

সবজির দামের বিষয়ে কৃষি বাজারের ব্যবসায়ী মুকুল বলেন, বাজারে আগের তুলনায় শিম, গাজরের সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু অন্যান্য সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। এ কারণে শীতের আগাম সবজি আসার পরও দাম কমছে না। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে শীতের সবজি ভরপুর না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী লিটন বলেন, ‘বন্যার পর টানা বৃষ্টিতে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে সবজির দাম এমন চড়া। সামনের সপ্তাহে সব সবজির কেজি ১০০ টাকা হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি যা তাতে জানুয়ারির আগে সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম।’