ধর্ষিতা বিধবাকে মীমাংসার কথা বলে দুই দফা গণধর্ষণ

8
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
এত ধর্ষণ। এটা বলতেই যেন বিরক্তি চলে আসছে আমাদের, তবু হায়েনাদের ক্ষুধা থামছে না কিছুতেই। এবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ওষুধ আনতে গিয়ে এক বিধবা (৪০) নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পরে এ ঘটনা আপোষ মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ওই নারীকে আরো দুই দফা গণধর্ষণ করা হয়।

এই ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় গত ১৪ অক্টোবর বিধবা নারীর দায়ের করা গণধর্ষণের মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় তিনি ছয়জনকে আসামি করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার নৈকাহন আখরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী আলী আকবরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আলী আকবর ওই এলাকার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে।

মামলার বরাত দিয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উপজেলার নৈকাহন বাজারের আনিসের মার্কেটে ঔষধ কিনতে যান দুই সন্তানের জননী ওই বিধবা নারী। এ সময় আলী আকবর ওই নারীকে ডেকে বাজারের একটি মাছের দোকানে নিয়ে যায়। পরে দোকানের সার্টার বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে তাকে। ওই নারী দোকান থেকে বের হতেই এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মোস্তফা (৫৫) ও আনারুল (৪০) লিটন (৩২) ঘটনা জানতে চান। তারপর মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে তারা ওই নারীকে লিটনের পুকুর পাড়ে নিয়ে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে লিটন ফোন করে শাহীন (৩২) ও তরিকুলকে (৩৪) ডেকে এনে তারা নারীকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেতে চায়। এতে রাজি না হওয়ায় শাহীন ও তরিকুল নারীকে জোর করে রাত সাড়ে দশটার দিকে একই এলাকার আলী হোসেনের নির্মানাধীন ভবনের ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে। পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও বিধবা নারী লোকলজ্জায় এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ঘটনা গোপন রাখেন। তবে পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সাথে আলোচনা করলে তাদের পরামর্শে ১৪ অক্টোবর রাতে আড়াইহাজার থানায় বাদি হয়ে তিনি মামলা দায়ের করেন।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিধবা নারীকে গণধর্ষনের ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামী আলী আকবরকে আমারা গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। অন্য আসামিদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।