টাঙ্গাইলে ধর্ষণ মামলায় দেশে প্রথম মৃত্যুদণ্ডাদেশ

১৫ই অক্টোবর, ২০২০ || ০১:১১:৫৯
8
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে মাদ্রাসাছাত্রী গণধর্ষণের মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডাদেশ সংক্রান্ত অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর ধর্ষণ মামলায় দেশে এটাই কোনো মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- সাগর চন্দ্র, সুজন মনি রিশি, রাজন, সঞ্জীত এবং গোপী চন্দ্র শীল। এদের মধ্যে সঞ্জীত এবং গোপী চন্দ্র কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক।

এর আগে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০’-এর খসড়া সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়। পরদিন সেই অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাছিমুল আকতার জানান, ২০১২ সালে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের সাগর চন্দ্র শীলের সাথে মোবাইলের মাধ্যমে ভূঞাপুর উপজেলার মাদ্রাসাছাত্রী ওই ভিকটিমের পরিচয় হয়। একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে মাদ্রাসা যাওয়ার পথে সকালে ভুয়াপুর উপজেলার সালদাইর ব্রীজের কাছে পৌঁছলে সাগর কৌশলে একটি সিএনজিতে এলেঙ্গা নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে মধুপুরে চারাল জানী গ্রামে তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার চার বন্ধু তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। সাগর হিন্দু বলে তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। পরে ঐ রাতে সাগর রাজনের বাড়িতে আটক রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ১৭ জানুয়ারি রাতে তাকে বংশাই নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে তারা পাঁচজনে মিলে পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ফেলে রেখে চলে যায়।

পরদিন ভোরবেলা স্থানীয়দের সহায়তায় ভিকটিমের বাড়িতে মোবাইলের মাধ্যমে খবর পাঠানো হলে স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে ভিকটিম বাদী হয়ে ভুয়াপুর থানায় ১৮ জানুয়ারি দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুজন মণি ঋষিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। ১৯ জানুয়ারি আসামি সুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। সুজন তার জবানবন্দিতে সাগর, রাজন, সনজিত ও গবি চন্দ্র জরিত থাকার কথা উল্লেখ করে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরিক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। পুলিশ তদন্ত শেষে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করে। পরে ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্যদিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।