ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ চেষ্টাকারী শামীমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন

১২ই অক্টোবর, ২০২০ || ০৭:০৬:৩৮
11
Print Friendly, PDF & Email

জুনাইদ কবির, ঠাকুরগাঁও:
হাজি শাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী বখাটে শামীমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার এলাকাবাসী ও নিপীড়ন ছাত্রীর সহপাঠীরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রুহিয়া চৌরাস্তায় বখাটে শামীমের শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসী ও নিপীড়ন ছাত্রীর সহপাঠীরা ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নজরুল ইসলাম মাস্টার, সাদেকুল ইসলাম মাস্টার, দোলোয়ার হোসেন মাস্টার, ১ নং রুহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন, ছাত্রী বিউটি আক্তার, সেলিনা আক্তারসহ অনেকে।

এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজাগাঁও ইউনিয়নের চাপাতি গ্রামের মির্জাদ আলীর ছেলে শামীম হোসেন (২৬) একজন দুর্দান্ত প্রকৃতির অসৎ ছেলে। তার লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে এলাকার নারী ও শিশু জায়া-জননীরা সম্ব্রম নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় আছে। শামীম গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকালে রুহিয়া চাপাতি গ্রামের অষ্টম শ্রেণীর ১২ বছরের এক ছাত্রীকে বাড়ির পাশে পুকুর থেকে তুলে নিয়ে যায় জহিরুল ইসলামের নির্জন বাড়িতে। সেখানে সেই ছাত্রীকে নিয়ে গিয়ে শামীম ছাত্রীর ওড়না দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেধে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এ সময় মেয়েটি তার ইজ্জত বাঁচাতে চিৎকার করলে শামীম বাঁশের লাঠি দিয়ে মেয়েটির মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। মেয়েটির চিৎকারে তার মা ও প্রতিবেশিরা ছুটে গেলে শামীম পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বরে রুহিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়। দীর্ঘ একমাস অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী শামীমকে গ্রেফতার না করায় ধর্ষণ চেষ্টাকারী বখাটে শামীমকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে শামীমের ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

এছাড়াও মানববন্ধনে ছাত্রীরা বলে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন মেয়ে তিনি মেয়ে হয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন কিন্তু আমরা ছাত্রীরা স্বাধীনভাবে স্কুল, কলেজে যেতে পারি না বখাটেদের জন্য। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ধর্ষণকারীদেরকে ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ জানায় তারা।

উল্লেখ্য, এরপূর্বে ২০১৬ সালে শামীম সদর উপজেলার সালন্দর এলাকায় সেলিম নামে এক ছেলেকে হত্যা করে। সেলিমের ছোটবোনের সাথে প্রেমে বাঁধা দেওয়ায় শামীম তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ ট্রাংকে ভরে বাড়িতে নিয়ে এসে টাঙ্গন নদীতে ফেলে দেয়। এই মামলাটি এখনো ঠাকুরগাঁও জজ আদালতে বিচারাধীন আছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।