নাফ নদী দিয়ে ঢুকলো কোটি কোটি টাকার ইয়াবা

10
Print Friendly, PDF & Email

কক্সবাজার থেকে করসপন্ডেন্টঃ
দেশে মাদক প্রবেশের অন্যতম রুট টেকনাফ থেকে ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ইয়াবার এই বড় চালানটি মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে দেশে প্রবেশ করে বলে জনা গেছে। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২-বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর কক্সবাজার রিজিয়নের আওতাধীন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ দমদমিয়া বিওপি’র টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, দমদমিয়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ ন্যাচারপার্ক বরাবর নাফ নদী হয়ে মিয়ানমার হতে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচার হতে পারে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে দমদমিয়া বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল বর্ণিত এলাকা বরাবর নাফ নদীতে টহল জোরদার করে গোপনে অবস্থান গ্রহণ করে।
গতকাল আনুমানিক ৭ টা ২০ মিনিটে টহলদল দমদমিয়া বিএসপি হতে আনুমানিক ২০০ মিটার উত্তরে ন্যাচারপার্ক বরাবর নাফ নদী দিয়ে ৪/৫ জন ব্যক্তিকে ২ টি নৌকা নিয়ে মিয়ানমার হতে শূন্য রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে।

টহলদল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরার জন্য চ্যালেঞ্জ করে। পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশকারীরা বিজিবি’র টহলদলকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ওই সময়ে বোট নিয়ে নিরাপদ ও কৌশলগত অবস্থান নিতে টহলদলের কয়েকজন সদস্য সরকারি সম্পদ এবং নিজেদের জান ও মাল রক্ষার স্বার্থে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। বিজিবি’র পাল্টা গুলিবর্ষণে ভীত হয়ে সামনের নৌকায় থাকা ইয়াবা পাচারকারীরা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পিছনে অবস্থিত ইঞ্জিন চালিত নৌকায় স্থানান্তরিত হয়ে দ্রুত মিয়ানমারে চলে যায়।

পরবর্তীতে টহলদল পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া উল্লেখিত নৌকাটি তল্লাশি করে ৩ টি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করে তার ভেতর থেকে ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মূল্যমানের ২ লাখ ২৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে। ইয়াবা পাচারকারীদের আটকের নিমিত্তে বর্ণিত এলাকা ও নদীর তীরসহ পার্শ্ববর্তী স্থানে পরবর্তী রাত পৌনে ১০ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও কোনো পাচারকারী বা তাদের সহযোগীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে কয়েক ঘণ্টা ওই স্থানে নজরদারি করেও কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। তবে ওইসব ইয়াবা চোরাচালানকারীদের শনাক্ত করার জন্য বিজিবি ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।