সাত দফা দাবিতে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন

৬ই অক্টোবর, ২০২০ || ০৭:২০:৩৪
16
Print Friendly, PDF & Email

জয়নাল আবেদীন জিহান, বশেমুরবিপ্রবি:
সম্প্রতি দেশে চলমান ধর্ষণ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে বর্বর নির্যাতন, ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটনাসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ, এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে চোখে কালো কাপড় এবং হাতে পোস্টার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

সে সময় শিক্ষার্থীরা তাদের সাত দফা দাবির কথাও তুলে ধরেন।

সাত দফা দাবিসমূহ ছিলঃ
১. ধর্ষণ আইন পুনঃবিবেচনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা।
২. ধর্ষণজনিত ঘটনা বা অপরাধের জন্য আলাদা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ৩০ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া তৈরি করা।
৩. ধর্ষিতার বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
৪. জেলায় জেলায় ধর্ষণ প্রতিরোধে পুলিশের আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করা।
৫. নির্জন রাস্তায় সচল সিসিটিভি স্থাপন করা।
৬. পূর্ববর্তী সকল ধর্ষণ মামলার রায় ছয় মাসের মাঝে সম্পন্ন করা।
৭. দলীয় মদদে কোন ধর্ষণকে বা কোন অপরাধকে আশ্রয় দেওয়া হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী শরীফ আহমেদ বলেন, ‘যে ঘটনাগুলো মিডিয়াতে আসে, ভাইরাল হয়, শুধু সেই ঘটনাগুলো নিয়েই আন্দোলন হয়। আরও অনেক ঘটনা ঘটে, যেগুলো আদালতে ঝুলতে থাকে। আলোচিত-অনালোচিত সব ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।’

মানববন্ধনে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘ধর্ষণ একটি জঘন্যতম অপরাধ। বর্তমান সময়ে মা -বোনেরা তার ইজ্জত নিয়ে শংকিত ও ভীত, ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। নিত্যদিন এসব ঘটনা দেখে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা বড়ই লজ্জিত। দেশব্যাপী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বন্ধে সরকারকে ঘরে-বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে যাতে আর কোন মা বোনকে এভাবে নির্যাতিত হতে না হয়। দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ধর্ষিতাকে সরকারীভাবে চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করুন’।

এ সময় তাদের হাতে থাকা পোস্টার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘স্টপ রেপ, আমি কবে ধর্ষিত হচ্ছি? জবাব দাও, ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, উই ওয়ান্ট রেপ ফ্রি বাংলাদেশ, এভাবেই যদি ধর্ষিত হলাম কোথায় আমার স্বাধীনতা, নারী নির্যাতন ঘটনায় নীরবতা আর না। প্রতিরোধ করি প্রতিরোধ গড়ি’ ইত্যাদি।