দেলোয়ারের মাছের খামার থেকে ককটেল-গুলি উদ্ধার

12
Print Friendly, PDF & Email

নোয়াখালী থেকে করস্পন্ডেন্টঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান মো. দেলোয়ার হোসেনের মাছের খামার থেকে সাতটি ককটেল ও দুটি গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দেলোয়ারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দেলোয়ারের মাছের খামারে র‌্যাব ১১-এর একটি টিম অভিযান চালায়। এ সময় ওই মাছের খামার থেকে সাতটি তাজা ককটেল ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত রোববার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন শিমরাইল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে বাসে তল্লাশি চালিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তাঁর দেহ তল্লাশি করে করে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে বেগমগঞ্জের ঘটনায় করা দুটি মামলার প্রধান আসামি বাদলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রাতে বাদলকে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‍্যাব।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে এক গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তাঁর স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখেন দেলোয়ার বাহিনীর বাদলসহ অন্যরা। এর পর তারা গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পরে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে গত রোববার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। সেখানে নয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো সাত-আটজনকে আসামি করা হয়। তবে দেলোয়ারকে আসামি করা হয়নি। এরই মধ্যে দুটি মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই আসামিকে গতকাল ছয়দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।