ধর্ষনের প্রতিবাদে গুলশানে মানববন্ধন

152
Print Friendly, PDF & Email

কাজী মেহেদী হাসান, ঢাকা:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে ঘটিত বীভৎস ধর্ষন ও নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হবার পর সারাদেশ এখন উত্তাল। শাহবাগ এবং উত্তরায় চলছে গণজমায়েত। এছাড়াও ঘটনার স্থান নোয়াখালীসহ দেশের বেশকিছু স্থানে হয়েছে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ। এরই ধারাবাহিকতায় গুলশান-১ চত্বরে একদল যুবককে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়।

প্ল্যাকার্ডের বক্তব্যগুলিও সচরাচর না দেখা গুলশানবাসীকে যে নাড়িয়ে দিয়েছে তা তাদের মুগ্ধ চোখ দেখেই বলে দেয়া যায়। পথচারী,সিগন্যালে আটকে থাকা উৎসুক বাসযাত্রীর চোখ; যারা সিগন্যাল ছেড়ে দেয়ায় সবগুলো ব্যানার পড়তে পারেনি বলে আক্ষেপ দেখিয়েছে। অনেকে উৎসুক হয়ে যোগ দিয়েছে এই দলের সাথে, অনুরোধ করেছে এক ফ্রেমে বন্দি হওয়ার। এসবই বলে দেয় গুলশানের মতো কর্পোরেট এলাকায় এই প্রতিবাদ নতুন। এখানের আগ্নেয়গিরি এখনও সুপ্ত যা এই যুবকেরা জ্বালাতে এসেছিল।

তাদের সাথে কথা বলেও জানা যায় আরও চমক জাগানিয়া তথ্য, “সারাদেশ যখন বেরিয়ে পড়ছে প্রতিবাদে তখন এই কর্মজীবী যুবকের দলও অফিসের ২০ টা মিনিট সময় নিয়ে সামিল হয়েছে একাত্মতায়। নিজের ভেতরের তাগিদে, নিজের ইচ্ছায় এমনটাই বলছিলেন তাদের একজন।”

তারা আরও বলেন, “প্রত্যেকের উচিত যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করা। হোক একজন, তবুও। আপনার নিকটস্থ বাসস্ট্যান্ডে, মুদি দোকানের সামনে, অফিসের সামনে। যেখান থেকে পারা যায়। অন্তত আমরা যে এখনও পুরোপুরি মরে যাই নি সেটা বিশ্বাস করাতে। নিজের জন্যই।”

একটা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- আপনার বোনের ধর্ষনের খবর আসলে তারপর আপনি প্রতিবাদ করবেন? অন্য একটায়- একজন মা’কে উলঙ্গ করে ওরা কি ওদের জন্ম পরিচয় পেয়েছিল? কিংবা- ধর্ষক তার মা’কে কী নামে ডাকে?

তাদের সংক্ষিপ্ত অথচ কার্যকরী মানববন্ধন শেষে মূল্যবান প্ল্যাকার্ডগুলি চত্ত্বরেই টানিয়ে রেখে যেতে দেখা যায়। জিজ্ঞেস করলে উত্তরে জানা যায়- “বাতাসে উড়ে যেতে পারে এখনই, হয়তো বৃষ্টিতে যাবে একটু পরেই, তবু যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ মানুষের চোখে পড়ুক, থমকে দাঁড়াক। আমরা মানুষের ভেতরের এইটুকু পরিবর্তন করতেই এসেছিলাম।”