বিদায়ী ভালোবাসায় ভাসলেন আজরা টেকনোলজি’স এর আসিফ তুহিন

128
Print Friendly, PDF & Email

কাজী মেহেদী হাসানঃ

বিদায় শব্দটা বলতে ভালো লাগে না কখনোই। যে খুব কাছের তার ক্ষেত্রে তো বটেই, আর যিনি অল্প চেনা তার ক্ষেত্রে থাকে আরও কিছু সময় না পাবার আক্ষেপ। এমন কিছু দৃশ্যই দেখা গেল আজ গুলশানস্থ স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান আজরা টেকনোলজি’স কার্যালয়ে। কলিগ’রা যেন কলিগের চেয়ে বন্ধু হয়েই উঠেছে বেশি। সে স্বাক্ষর তারা দিয়েছেন বিদায়ী উপহারেই। তবু কারও চোখই ছলছল করেনি, আমাদের যে বড় হবার অভিনয় করে যেতেই হয়।

২০১৮- এ আজরা’তে আসেন আসিফ তুহিন। আইটি গ্রুপের একজন কার্যকরী সদস্য হিসেবে পার করেছেন প্রায় দু’বছরের মতো সময়। তবু দিন তো কেবল সূর্য উঠানামার হিসেব, যেখানে মানুষ কেবল কাছেই আসতে থাকে। বাড়ে পরিচয়, গোপন শব্দগুলো আর গোপন থাকে না, হয় বন্ধুত্ব, একদিন মনে হয় বিদায় শব্দটা’র ডিকশনারিতে কোন প্রয়োজনই ছিল না।

স্কুলের মুখস্ত বিদায় সম্ভাষণের মতোই তবু এত সহজে বলাও যায় না। কোথায় যেন আটকে যায়। কী যেন ছেড়ে যাচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের সময় থেকে। আমরা সবাই বড় হয়েছি প্রমাণ দিতেই যেন এরপরও আয়োজন করতে হয় বিদায়ের ক্ষণ। সে আয়োজনে স্বীকার করতেই হবে বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেখিয়েছেন নাজমুল হাসান মেহেদী। সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার ছিল আসিফ তুহিনকে নিয়ে তার কলিগদের বিভিন্ন মন্তব্য সম্বলিত উপহারটি। প্রতিটি লাইনই যেন সাক্ষ্য দিচ্ছে আসিফ মোটেই কেবল কলিগ নয়। কলিগ থেকে কবে বন্ধু হয়ে উঠেছে কেউ জানে না। এমন করেই নিজের কথা জানিয়েছেন আজরা টেকনোলজিসের আরেক সদস্য তাহবিব হাবিব।

আসিফ তুহিনে’র বিদায়ী উপহারগুলোর মধ্যে সবার পক্ষ থেকে দেয়া পরিধেয় উপহারটি তুলে দেন নিউজ’বি টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক মুন্সী তরিকুল ইসলাম। ফুল তুলে দেন আইটি গ্রুপের পর্যবেক্ষক নাজমুল হোসেন এবং সবার মন্তব্য সম্বলিত চমৎকার উপহারটি তুলে দেন আজরা’র অন্যতম কর্নধার মাসুম রাব্বী আয়মান।

আনা হয়েছে কেক। সেই কেক এর উপর গোটা গোটা করে লেখা ‘আরও কিছুদিন একসাথে চা খাওয়া যেত’। কি সহজ অথচ কি করুণ এক কথা। তাকে উইশ করে লেখা উপহারে আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন আজরা টেকনোলজিসের স্বত্বাধিকারীদের অন্যতম একজন মাসুম রাব্বি আয়মান। গোটা অফিসটাকে তিনিই সামলান। হয়তো তিনি নিজেও যে ভেতরে কতটা চঞ্চল আর অশ্রুসজল তাও সামলে রাখেন খুব সচেতনভাবে। অফিশিয়ালিই উচ্চারণ করলেন আসিফ তুহিনের অবদানের কথা, জানালেন শুভাশিসও। উপস্থিত ছিলেন আজরা’র অন্য দু’জন গুরুত্বপূর্ণ স্বত্বাধিকারী মৌসুমী জামান এবং রবিউল হোসেন।

দিনশেষে এটা কেবলমাত্রই বিদায় অনুষ্ঠান নয়, আক্ষেপ বাড়িয়ে তোলার এক উপলক্ষ। আরো একটু অন্যরকম করে বললে আমরা যে ভালোবাসতে এখনও ভুলে যাইনি সেটাই যেন নতুন করে আবার জানলাম। সবশেষে ভালোবাসারা ভালো থাকুক, এমন প্রত্যাশাই জানিয়েছেন আসিফ তুহিনের কলিগ কাম কাছের মানুষেরা।