হিজাব পড়লেই চাকরি হারাতে হবে

২৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ০৩:০৪:৩৮
10
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ

চাকরিক্ষেত্রে থাকে স্বাভাবিকভাবেই বেশকিছু রুলস এন্ড রেগুলেশন। সেটার সম্পর্কে আমাদের সম্যক ধারণা থাকলেও বেশকিছু জায়গায় দেয়া হয় অদ্ভুত কিছু প্রস্তাব। যা আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে, সাথে বাড়ায় রুটিরুজি হারানোর শঙ্কাও। মুসলিম নারীরা হিজাব পরিধান করলেও, চাকরি ক্ষেত্রে অন্তত হিজাব পরা যাবে না এমন শর্তই জুড়ে দিয়েছে সিঙ্গাপুরের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। এতেই বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী নারীরা।

অবশ্য সিঙ্গাপুরে হিজাব পরা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এই নিয়ে আবারো তৈরি হচ্ছে বিব্রতকর পরিস্থিতি। দেশের একটি সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন ফারাহ (ছদ্মনাম)৷ তরুণ বয়স থেকেই হিজাব পরেন তিনি৷ কিন্তু যে হাসপাতালে তিনি কাজ করেন, সেখানে হিাজাব পরা নিষেধ। আর তাই কাজ শুরুর আগে হিজাবটি খুলে ফেলেন ফারাহ৷ শুধু ফরাহ সিঙ্গাপুরের অনেক নারী এ পরিস্থিতির স্বীকার।

ফারাহ বলেন, দুই বছর আগে যখন চাকরির পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম, তখন তারা আমাকে বলেছিল, হিজাব পরে এখানে কাজ করা যাবে না৷ আমি অসহায় হয়ে পড়ি৷ তিনি বলেন, কাজ শুরুর আগে হিজাব খুলে ফেলার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হয় তাকে৷ 

সিঙ্গাপুরে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন আরো অনেকে৷ গত মাসে একটি খাবারের দোকানের মহিলাকর্মীকে হিজাব খুলে ফেলতে বলেছিল কর্তৃপক্ষ৷ দেশজুড়েই তখন বিতর্ক শুরু হয় বিষয়টি নিয়ে৷ দেশটির প্রেসিডেন্ট হালিমাহ ইয়াকুব বলেন, হিজাবের বিষয়ে কোন বৈষম্যমূলক আচরণের সুযোগ তিনি দেখেন না্। একই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীও৷ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং বলেন, কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের বৈষম্য বিরক্তিকর৷ এমন আচরণ মানুষের রুটিরুজির উপর প্রভাব ফেলে৷

চল্লিশ লাখ লোকের দেশ সিঙ্গাপুরে শতকরা ১৫ ভাগ মুসলিম৷ তবুও পুলিশ বিভাগসহ দেশটির বেশ কিছু কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা আছে৷ এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একটি আন্দোলনও শুরু হয়েছে সম্প্রতি৷ ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার লোক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন৷ ২০১৩ সালে দেশটির মুসলিম বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াকুব ইব্রাহিম বলেন, কোনো কোনো কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরে কাজ করা নারীদের জন্য ‘সমস্যাজনক’ হতে পারে৷ 

কর্মক্ষেত্রে হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নারী উন্নয়নে নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন দেশটিতে মুসলিম নারীদের উন্নয়নে কাজ করা কর্মীরা৷ তারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার ফলে নারীরা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে৷