করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে দিনে ১৩ হাজার নমূনা পরীক্ষা করাতে চায় সরকার

11
Print Friendly, PDF & Email

নিউজবিটোয়েন্টিফোরডটকম:
দৈনিক ১৩ হাজারের বেশি করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। শীতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণ রোধে এই কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ৮ জন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা দ্বিতীয় সংক্রমণ প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে এসব কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজ রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভা হওয়ার কথা আছে। কবে থেকে বর্ধিত হারে নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে সে বিষয়ে আজকের সভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে। এর আগে জাতীয় কমিটিও বৈঠক করেছে।

করোনায় দ্বিতীয় সংক্রমণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বিশ্বব্যাপী মানুষ করোনাকে অবহেলা করছে। এর ফলে আমেরিকা, ইউরোপসহ অনেক দেশেই করোনায় সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে।

আমাদের দেশেও শীতকালে করোনায় সেকেন্ড ওয়েভ শুরুর আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলে কি কি করণীয় সে ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

করোনা মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই দেশের স্বাস্থ্য খাত সক্ষমতা দেখিয়েছে। আক্রান্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার বিশ্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলেও দেশের স্বাস্থ্য খাত এভাবেই মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষা কমে যাওয়ায় দেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা দুই হাজারের নিচে নেমে এসেছে। তবে এর মধ্যেই শনাক্তের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

দৈনন্দিন মৃত্যুর সংখ্যা কখনও কমছে আবার বাড়ছেও। এ পরিস্থিতিতে গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীতকালে সংক্রমণের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ওই রাতেই বৈঠক করে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এ সংক্রান্ত রোডম্যাপ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, প্রণীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তাছাড়া শনিবার রাত ৮টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রণালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলোকে কার্যক্রম বণ্টন করে দেয়া হয়।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতর ৮ জন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শে দেশে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণ মোকাবেলায় বেশকিছু কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে নতুন সংক্রমশ শনাক্তে দৈনিক ১৩ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষার কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি মিলে ১০৩ অনুমোদিত ল্যাব কাজে লাগানো হবে। এছাড়া সম্প্রতি র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে সাড়ে ১০ লাখ এন্টিজেন পরীক্ষার কিট আনার প্রক্রিয়া চলছে।