পদ্মা সেতু রেললাইনে ত্রুটিঃ মুখোমুখি সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং মন্ত্রী

14
Print Friendly, PDF & Email

নিউজবিটোয়েন্টিফোরডটকম:
সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতুর রেললাইনে ত্রুটি আছে বলে আপত্তি জানিয়েছিল পদ্মা সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এর ফলে সেতুর দুই প্রান্তে উঠতে এবং নামতে পারবে না বড় ধরনের ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান।

সেতুর দুই প্রান্তে যে ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে, এই ত্রুটি শব্দটির সাথে একমত নয় সরকারের দুই মন্ত্রী। পদ্মা সেতুর রেললাইনে আদৌ কোনো ত্রুটি আছে কিনা সেটা বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়া এভাবে মন্তব্য করা উচিত হবে না বলে জানান তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে সড়ক পথে পদ্মা রেল লিংক প্রকল্প এলাকায় গিয়ে এমনটি জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

অভিযোগ রয়েছে, মাওয়া ও জাজিরা দুই পাশে পদ্মা সেতুর উপরে কিছু অংশে রেললাইনে হেডরুম যে উচ্চতায় দেয়ার কথা, সেটি রেলওয়ে দেয়নি বলে আপত্তি জানিয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। দেশের সড়কপথের হেডরুম স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে হরাইজন্টাল ১৫ মিটার এবং ভার্টিক্যাল ৫.৭ মিটার। যা এই সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে মানা হয়নি। এ অবস্থায় সেতুতে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান যেতে বাধার মুখে পড়বে।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে ত্রুটির বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘যে ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে সেখানে আদৌ কোনো ত্রুটি আছে কিনা, সেটা এখনো নিশ্চিত না। তবে এতবড় একটি জাতীয় প্রকল্প, যেটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে এসে সেতুর নামার সময় এবং ওঠার সময় দুটো জায়গায় যে সমন্বয় দরকার, সেখানে যদি কোনো ধরনের অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হয়, অবশ্যই আমাদের অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে। মোট কথা কোনো ধরনের ত্রুটি আমরা রাখতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি আছে বলে আমি মনে করি না। তবে এই সমস্যাটি যারা সমাধান করবে, তারা সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষের কাছে একটি ডিজাইন চেয়েছে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি ডিজাইন চেয়েছে। এই দুটো ডিজাইন পেয়ে গেলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

অপরদিকে মাওয়া অংশে পরিদর্শনে গিয়ে এম এ মান্নান রেল লিংক প্রকল্পের ত্রুটির বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি জাতীয় বিষয় এবং জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখা হচ্ছে। তবে ত্রুটি শব্দটির সঙ্গে আমরা একমত নই। ত্রুটি তখনই হবে, যখন বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত মাতামত পাওয়া যাবে। এখনো কিন্তু প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। কিন্তু কিছু সংশয় দেখা দিয়েছে। এতো বড় প্রকল্পে পদে পদে আরও সমস্যা হতে পারে। এটির সমাধান করার পথও আমাদের জানা আছে। আমাদের নিজস্ব প্রকৌশলী আছে, সবাই মিলে কাজ করছে। তবে এখনই ত্রুটির বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না।’

পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের মাওয়া ভাঙ্গা সেকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার ব্রিগেডিয়ার আহমেদ জামিল ইসলাম বলেন, ‘রোড অ্যান্ড হাইওয়ের ৫.৭ ভার্টিক্যাল স্ট্যান্ডার্ডের কথা বলা আছে। কিন্তু আমাদের মাওয়া অংশে তার থেকে ৬.৭ বেশি আছে। যেটি আমাদের বর্তমান ডিজাইন, সেটির উপর ভিত্তি করে দেখেছি। হরাইজন্টাল ক্লিয়ারেন্স একটি রোডের জন্য স্ট্যান্ডার্ড যতটুকু থাকা দরকার, এখানে ততটুকুই আছে। পদ্মা সেতু প্রকল্প চাচ্ছে ১৫.৫। সেটার কোনো যুক্তি হয়তো তাদের কাছে আছে। তবে পর্যায়ক্রমে আমরা বসে ইন্টারফেস কমিটির মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করব। এখানে ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু ১৫.৫ হরাইজন্টাল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আমাদের মতৈক্যের একটু সমস্যা আছে। কারিগরি দিকটি আমরা দেখব, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সাথে বসে আমরা বিষয়টির সমাধান করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এদিকে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে হরাইজন্টাল ক্লিয়ারেন্স ১৫.৫ দেয়া হয়েছে। যা আগে আমদের ছিল ১৩.৯। আমাদের ডিজাইন মডিফিকেশন করার মাধ্যমে সেটিকে ১৫.৫ করা হচ্ছে। ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন ছিল ৫.৭। বর্তমানে আমাদের আছে ৫.৩। সেটাকেও ডিজাইন মডিফিকেশন করার মাধ্যমে ৫.৭ ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স করা হবে। তবে এটার জন্য খুব একটা খরচ বাড়বে না।’

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম যিনি এই ত্রুটির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি বলেন, ‘আমরা ত্রুটির বিষয়ে আপত্তি দিয়ে চিঠি দিয়েছি। এখন আমরা আলোচনা করছি। সেটির সমাধান হবে।’

উল্লেখ্য, দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত পদ্মা সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৬.১৫ কিলোমিটার। পদ্মা সেতুর উপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের অংশে থাকবে একটি রেলপথ। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প।