রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে?

২ই মে, ২০১৯ || ১০:৩১:৪৬
21
Print Friendly, PDF & Email

রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ সৈয়দ কামাল হোসেন এ দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ১৬ জুন পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন।

সাক্ষীরা হলেন- সাভার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ছামসুদ্দিন। এ নিয়ে মামলাটিতে তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

২০১৭ সালের ২১ মে সোহেল রানাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার অপর আসামিরা হলেন- সোহেল রানার বাবা আব্দুল খালেক, মা মর্জিনা বেগম, সাভার পৌরসভার মেয়র মো. রেফাতউল্লাহ, সাভার পৌরসভার প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান রাসেল, প্রাক্তন সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, প্রাক্তন উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম, সাভার পৌরসভার প্রাক্তন টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. মোতালিব।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সোহেল রানা ও তার বাবা আবদুল খালেক, মা মর্জিনা বেগম রানা প্লাজা নামের একটি বিপণিকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তন্ময় হাউজিং লিমিটেড নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানটি ভবনের দোতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সোহেল রানা ওই প্রতিষ্ঠানকে বিদায় করে দেন। পরে নিজেরাই ছয় তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করেন। বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে সেখানে পোশাকের কারখানা স্থাপন কর হয়। এরপর ছয় তলা ভিত্তির এ ভবনকে ১০ তলা করতে সাভার পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে নয় তলা পর্যন্ত কাজ শেষ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দুদকের উপ-পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে দুদকের ওই কর্মকর্তা সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার এজাহার থেকে আরো জানা যায়, নকশাবহির্ভূতভাবে নয় তলা ভবন নির্মাণ, সাভার পৌরসভা থেকে অবৈধভাবে পোশাক কারখানা স্থাপন করার অনুমোদন ও গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করে আসামিরা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।