কুষ্টিয়ায় ২৬১ চালকলকে কালো তালিতাভুক্ত করা হচ্ছে!

12
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
চুক্তি করেও বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল না দেয়ায় কুষ্টিয়ায় ২৬১ চালকলকে কালো তালিতাভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব মিলের জামানত বাজেয়াপ্ত, প্রণোদনা বাতিল ও আগামী দুই মৌসুম চাল দেয়ার চুক্তি থেকে বাইরে রাখার পদক্ষেপ নিচ্ছে খাদ্য বিভাগ।


মিল মালিকরা বলছেন, ধানের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। কুষ্টিয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। সময় বাড়িয়েও সংগ্রহ হয়েছে ২২ হাজার মেট্রিক টনের কিছু বেশি।

এবার জেলার ২৫৮টি ম্যানুয়াল ও ৩টি অটো রাইস মিল চাল দেয়নি সরকারি খাদ্য গুদামে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদরের ১৪৪টি, মিরপুরে ৬৭টি ও দৌলতপুরের ৪৭টি মিল রয়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচসহ নানা কারণ দেখিয়ে চাল না দেয়ার কথা জানায় মিল মালিকরা। মিল মালিকরা জানান,’যেহেতু ধান কিনে আমাদের বিক্রি করত হয় তাই ধানের সঙ্গে মূল্যের কিছুটা সম্পৃক্ততা থাকবেই।

যেসব মিল মালিকরা চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশপাশি অবৈধ মজুদ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে খাদ্য অধিদপ্তর। কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তাহসিনুল হক বলেন,’যারা চাল সরবরাহ করেনি তাদেরকে ব্যাংক প্রণোদনা দেবার সুপারিশ করেছে। কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মজিবর রহমান বলেন,’গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষক ব্যতীত, মৌসুমী ব্যবসায়ী যারা আছে তার ধান মজুত রাখছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার জন্য আমরা নির্দেশনা প্রদান করেছি।

এদিকে, দফায় দফায় মিলগুলোতে চালের দাম বাড়ানো ও অবৈধ মজুদ খতিয়ে দেখতে আড়ৎ পরিদর্শন করেছে অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি দল। কুষ্টিয়া চালকল মালিক সমিতি সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, ‘চাল কোথাও মজুত আছে নাকি মূলত এটা পরিদর্শন করে, বাজারে উর্দ্ধগতি যাতে না হয় সেই বিষয়ে আমাদের পরামর্শ দেয়া হবে।