পানির নিচে ২০ গ্রাম, খাটের ওপর বসবাস

২২ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ০১:১৭:৩৫
13
Print Friendly, PDF & Email

হাতিয়া থেকে করসপন্ডেন্ট:
ঘরের ভিটার উপরে তিনফুট পানি, রান্না ঘরে নেই চুলা জালানোর ব্যবস্থা, কেউ কেউ খাটের ওপরে গ্যাসের চুলাই রান্না করলেও অনেকেই থাকেন অনাহারে, বাজারের হোটেল গুলোতে দুপুরে লাইন ধরে খাওয়ার আয়োজন, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই বাড়ীতে, নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চারটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে অস্বাভাবিক জোয়ারে মানবেতর জীবন যাপন করছে ১০ হাজারেও অধিক মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নলচিরা ঘাটের পাশে ওয়ার্কসপ মেকানিক মোতালেবের চার সদস্যের পরিবারের বসবাস। তখন বিকেল চারটা ঘরের মধ্যে ভিটার ওপর তিনফুট পানি। মোতালেবের স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে খাটের ওপর বসে আছে। পাশে বড় ছেলের পড়ার টেবিলের ওপর রাখা গ্যাসের সিলিন্ডার ও রান্নার আসবাবপত্র। প্রশ্ন করার সাথে সাথে মোতালেবের স্ত্রী কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত চারদিন তাদেরকে অধিকাংশ সময় এভাবে পার করতে হয়েছে। কখনও খেয়ে কখনও না খেয়ে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ঝুঁকিতে এভাবে আতঙ্কে দিন কাটছে।

জানা যায়, গত চারদিন ধরে অব্যাহত অস্বাভাবিক জোয়ারে হাতিয়ার সুখচর, নলচিরা, চরঈশ্বর ও তমরদ্দি ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম পাঁচ ফুট উচ্চতায় পানিতে প্লাবিত হয়। এতে ভেসে গেছে এসব এলাকার নিন্মাঞ্চলে বসবাস করা মানুষের ঘরবাড়ী, গবাদিপশু, পুকুরের মাছ ও ফসলি জমি।

গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিনে ও রাতে জোয়ারের পানিতে অধিকাংশ সময় পানিতে তলিয়ে থাকছে এসব এলাকা। অনেকের দৈনন্দিন রান্নার কাজ ব্যাহত হওয়ায় অনাহারে কিংবা আধপেটা খেয়ে দিন পার করছে এই এলাকার মানুষ। বাড়িতে রান্না না হওয়ায় স্থানীয় আফাজিয়া বাজারে দুপুর হলে হোটেল গুলোতে খাওয়ারের জন্য অনেক মানুষকে লাইন ধরতে দেখা যায়।

উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম মহব্বত জানান, আম্পানে আমার এলাকার কলেজ গেইট থেকে মাইজচা মার্কেট রাস্তাটি ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তা মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। গত রাতের অস্বাভাবিক জোয়ারে তা আবার ভেঙ্গে যায়। একই অবস্থা আছে সুখচর ও নলচিরা ইউনিয়নে মানুষ।

সুখচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, গত একমাস পূর্বের জোয়ারে ইউনিয়নের সকল রাস্তা ভেঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তা এখনও মেরামত করা হয়নি। এখন আবার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ী মেরামত করেছে কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছে এ অবস্থায় পুনরায় পুরো সুখচর ৫-৬ফুট পানির নিছে তলিয়ে গেছে। একাধিকবার ভেড়ীবাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলার পরও কাজ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, জোয়ারের পানিতে অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে। আমরা এটি প্রতিবেদন আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আগামী দুএকদিনের মধ্যে এসব এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতর করা হবে।