একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প

২১ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ০২:২৩:০৯
28
Print Friendly, PDF & Email

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, জবি:

একঘেয়ে জীবন কারোরই ভালো লাগে না। সবাই এমন কোনো কাজ করতে চায় যা মানুষকে উপার্জনের পাশাপাশি আনন্দ দিবে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি একটা ছোটখাটো উদ্যোগ নেওয়ার সীদ্ধান্ত নেয় অনেকেই। এমনই একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ জাকিয়া নূর ঐশী। হাতে তৈরি কাঠ ও মেটালের গহণা নিয়ে তার ক্ষুদ্র ব্যবসা। শুরুটা আকস্মিকভাবে হলেও এখন ভালোই চলছে তার ব্যবসা।

আগপিছ বেশি কিছু না ভেবেই ২০২০ সালের ১লা জানুয়ারি একটা ফেইসবুক পেইজ খুলে ফেললো সে। ব্যবসা করার কথা মাথায় আসার আগে তার মাথায় এসেছিলো এসেছিল যে এমন একটা পেইজ খুলবে যেখানে সে তার ভালো লাগার কাজ গুলো শেয়ার করবে। যেমন সে ছবি আঁকতে ভালোবাসে, মেহেদী পরাতে আর ক্রাফট বানাতেও পছন্দ করে। এসব টুকটাক কাজ শেয়ার করবে। তাই তার মাথায় “শখ” নামটা এলো। পরবর্তীতে দেখা গেলো এই নামের নতুন অনেক পেইজ হয়ে গেছে৷ তাই শখ এর সাথে নিজের নাম জুড়ে নাম রাখলো “শখ- Shokh by Jakia“।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই তার এমন কিছু একটা করার ইচ্ছা ছিলো যার ফলে সে নিজের উপর আর্থিকভাবে নির্ভর করতে পারে। টিউশনির জমানো টাকা থেকে মাত্র ১৫০০ টাকা নিয়ে শুরু ‘শখ- Shokh by Jakia‘ এর যাত্রা। ছবি আঁকা, ক্রাফটিং, ডিজাইন এসব নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগতো তার। তার বিশ্বাস ছিলো কাঠের গহণায় এর সবকিছুই ফুটিয়ে তোলা সম্ভব সম্ভব। শৌখিন মানুষদের জন্য হাতে তৈরি কিছু শৌখিন জিনিস নিয়ে এসেছে ‘শখ’। বিশেষ করে হাতে তৈরি গহণা। তাই নিজের রুচি ও নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি করতে লাগলো কাঠ ও মেটালের গহণা।

বর্তমানে সে মালা, কানের দুল, আংটি, পায়েল, চোকার, খোপার কাটা, চাবির রিং নিয়ে কাজ করছে। সে মনে করে তার মায়ের সাপোর্টেই এই সাহসটা পেয়েছে এবং এতো দূর আসতে পেরেছে। যদিও তার বাবা অনলাইন বিজনেস করার ব্যপারে কখনোই একমত ছিলেন না। তবে সে এখন বুঝতে পারছে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা সে তার বাবার কাছে থেকেই পেয়েছে। তার ভাইয়ের কাছেও অনেক মেন্টাল সাপোর্ট পেয়েছে সে। তার বন্ধুরাও সবসময় পাশে ছিলো। বিশেষ করে তার প্রিয় বন্ধু তৌসিফের সাহায্য না পেলে হয়তো একার পক্ষে শুরুটা আরো কঠিন হতো।

প্রথম আড়াই মাস কাজের পরিধি ক্যাম্পাস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে তার শখের গহণা। এমনকি দেশের বাইরে নিউইয়র্কেও পাড়ি জমাতে সক্ষম হয়েছে ‘শখ- Shokh by Jakia‘। যা তার উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে আনন্দের অভিজ্ঞতা। সাধারণত প্রোডাক্টগুলোর ছবি মূল্যসহ পেজে দেয়া হয়। ক্রেতা যদি কোনো প্রোডাক্ট অর্ডার করতে চান তাহলে সেই মূল্যসহ ছবি দেখেই অর্ডার করতে পারেন। পণ্যটি এভেইলেবল আছে কিনা তা কনফার্ম করার পর ক্রেতার নাম, পুরো ঠিকানা এবং ফোন নাম্বার দিলেই নিশ্চিত করা হয়।

ক্রেতা যদি কোনো প্রোডাক্ট বুক করে রাখতে চায় তাহলে তা সর্বোচ্চ ১৫ দিন রাখা হয়, তবে যদি এডভান্স পেমেন্ট করে দিতে পারে তাহলে সেটা ক্রেতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। ক্রেতা তা যখন ইচ্ছা তখন নিতে পারেন। শখের সকল প্রোডাক্ট হাতে তৈরি তাই হাতে ৫-৭ দিন সময় নিয়ে অর্ডার করতে হয়। আর যদি প্রোডাক্ট রেডি থাকে তবে ১-৩ দিনের মধ্যেই পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ব্যবসায় সফল হওয়ার মূল দাবিদার হচ্ছে ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন। শখ পেজে আপলোড করা প্রোডাক্টের ছবি যেমন আছে তেমনই দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। যেহেতু হাতের কাজ তাই প্রোডাক্ট রিপিটের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ভুলত্রূটি হওয়াটাই স্বাভাবিক। শখের সকল প্রোডাক্টের প্রাইজ মোটামুটি ফিক্সড থাকে। 

ডেলিভারি প্রক্রিয়াঃ

  • হোম ডেলিভারি দেওয়া হয়, দেয়া হয় ক্যাশ অন ডেলিভারিও
  • ঢাকার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে থানার সদরগুলোতে হোম ডেলিভারি দেওয়া হয়
  • তবে ক্রেতার বাড়ি সদর থেকে ভেতরে হলে কষ্ট করে ডেলিভারি ম্যান এর বলা লোকেশনে গিয়ে পার্সেল রিসিভ করতে হয়, নয়তো সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিতে হয়
  • সেক্ষেত্রে এডভান্স পেমেন্ট করতে হয় এবং ২% বিকাশ চার্জ প্রযোজ্য থাকে
  • ডেলিভারি চার্জ:- ঢাকা মেট্রোর ভেতর- ৬০ টাকা, ঢাকা উপকূল- ১০০টাকা ও ঢাকার বাইরে- ১৩০টাকা

ক্রেতার সন্তুষ্টিই জাকিয়ার শখের উদ্দেশ্য। এই মূলমন্ত্র নিয়ে প্রতিটা ধাপে সে নিজেকে ক্রেতার জায়গায় রেখেই যেকোনো সীদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো অনেক দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে তার। বিশেষ করে হাতে তৈরি বিভিন্ন রুচিসম্মত পণ্য সুলভমূল্যে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সে। যেদিন অন্তত একজনের জন্য হলেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে ‘শখ- Shokh by Jakia‘ সেদিন মনে করবে তার উদ্যোগ সফল হয়েছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাঃ
শেখ জাকিয়া নূর ঐশী
শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ
রসায়ন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়