ঘরে বসেই ব্রণের চিকিৎসা

২ই মে, ২০১৯ || ১০:২১:০৫
23
Print Friendly, PDF & Email

যেসব ব্রণ হরমোনের হ্রাসবৃদ্ধির কারণে হয়ে থাকে তাকে হরমোনাল ব্রণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালের হরমোনগত হ্রাসবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, কিন্তু হরমোনাল ব্রণ যেকোনো বয়সের প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে। পুরুষদের তুলনায় নারীদের হরমোনাল ব্রণের প্রবণতা বেশি হওয়ার কারণ হলো ঋতুস্রাব ও ঋতুবন্ধের মতো বিষয়গুলো। এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে সাধারণত হরমোন নিজেই প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ ওঠার ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় নয়, তাদের ব্রণের কারণ হতে পারে অনির্ণীত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।

বয়ঃসন্ধিকালে চিবুক, নাক ও কপালে ব্রণ ওঠে থাকে। এগুলো সাধারণত মুখমণ্ডলের নিচের অংশে প্রকাশ পেয়ে থাকে, যেমন- চিবুকের নিচে ও চোয়াল রেখার চারপাশে। কিছু লোকের ক্ষেত্রে সিস্ট, ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেড ও মাথার ওপর ছোট পিম্পল হিসেবে হরমোনাল ব্রণের আবির্ভাব হতে পারে। সাধারণত ত্বকের নিচে গভীরে থাকা এসব সিস্ট ত্বকের ওপরে প্রকাশ পায় না, তারা ত্বকের ওপর ফোলা হিসেবে আবির্ভূত হয় ও স্পর্শ করলে ব্যথা অনুভূত হয়।

ঋতুস্রাব ও ঋতুবন্ধ অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম হরমোনাল ব্রণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এসব অবস্থা ত্বকে প্রদাহ বাড়ায়, ত্বকের ছিদ্রে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে ও ত্বক কোষকে আবদ্ধ করে ফেলে- একসময় ত্বকে ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হয়, যা ব্রণ সৃষ্টি  করে। এ প্রতিবেদনে হরমোনাল ব্রণের তিন ঘরোয়া চিকিৎসা আলোচনা করা হলো।

* সাইট্রাস ফলআলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড (এএইচএ) হলো উদ্ভিজ্জ অম্ল যা প্রধানত সাইট্রাস ফলে পাওয়া যায়। এএইচএ অতিরিক্ত মৃত ত্বক কোষ অপসারণে সাহায্য করে- এসব মৃত কোষ ত্বকের ছিদ্রকে বুজে দিয়ে ব্রণের উদ্ভব ঘটাতে পারে। এএইচএ হরমোনাল ব্রণ দ্বারা সৃষ্ট ক্ষত বা দাগ উপশমেও সাহায্য করতে পারে।

* টি ট্রি অয়েল : হরমোনাল ব্রণ দ্বারা সৃষ্ট উপসর্গের তীব্রতা হ্রাসে টি ট্রি অয়েল কার্যকর হতে পারে। ত্বকের যত্নের অনেক পণ্যের একটি সাধারণ উপাদান হলো টি ট্রি অয়েল- এটি ত্বকের দাগের চিকিৎসায়ও কার্যকর হতে পারে। টি ট্রি অয়েল প্রয়োগের পূর্বে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট বা অ্যালার্জির প্রতি সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করবেন। এ তেলের ঘনত্ব কমাতে এটির সঙ্গে নারকেল তেল বা জলপাই তেল বা জোজবা তেলের মতো ক্যারিয়ার অয়েল মেশাতে পারেন- এতে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও অ্যালার্জির ঝুঁকি প্রতিরোধ হবে।

* গ্রিন টি : প্রদাহ-হ্রাসকারী গুণের জন্য গ্রিন টি জনপ্রিয়। গ্রিন টি পান করা ছাড়াও গ্রিন টি এর নির্যাস সমৃদ্ধ জেল ও লোশন ব্যবহার করতে পারেন

অন্যান্য করণীয়
এসব ঘরোয়া চিকিৎসা ছাড়াও আরো কিছু করণীয় রয়েছে যা অবশ্যই অনুসরণ করবেন। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ উদ্ভিজ্জ খাবার সহায়ক হতে পারে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারও ত্বকের জন্য ভালো হতে পারে, সেই সঙ্গে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতেও ভুলবেন না।

লাল মাংস, চিনিযুক্ত খাবার, পাস্তা ও সাদা পাউরুটির মতো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও দুগ্ধজাত খাবার হরমোনাল ব্রণকে উত্ত্যক্ত করতে পারে অথবা এসব ব্রণের আবির্ভাবে ভূমিকা রাখতে পারে। ত্বকের ওপর ব্রণ কমাতে এসব খাবার সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।