’সাংবাদিকতায় বিএনপি-জামায়াত ঢুকেছে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে’

১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ০৮:৪২:৩৩
12
বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, সাংবাদিকতায় বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ঢুকে পড়েছে। তারাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অহেতুক সংবাদ পরিবেশন করে হইচই ফেলে দিচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সরকারের ভাবমূর্তি যাতে অক্ষুন্ন থাকে সেদিকে নজর রেখে সংবাদ পরিবেশন করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেশকিছু দিন আগে মিড ডে মিল নীতিমালা অনুমোদন হয়েছে। এটি এখন বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বর্তমানে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। এ সময় খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

এই সময়ের সাংবাদিকতা নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সাংবাদিকতা পেশায় এসেছে। তাদের কোনো জ্ঞান-গরিমা নেই। হুট করে একটা লিখে দিলেই মনে হয় হয়ে গেল। সরকারের ভাবমূর্তি কোথায় গেল না গেল তা তারা দেখে না।’

জাকির হোসেন বলেন, ‘আমার এলাকায়ও দেখেছি বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ছেলেরা এখন সাংবাদিকতা করে। তারাই ভ্রান্ত রিপোর্ট করে। এ বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের একটু নজর রাখা উচিত, সরকারের যাতে বদনাম না হয়।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যাণে দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলেছেন। বিএনপি আমাদের সন্বন্ধে নানা ধরনের কথা বলে মানুষকে নানাভাবে উসকে দিচ্ছে। এটা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার দেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মিড ডে মিল কার্যক্রমটি আমরা ১৬ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছি। আমরা বাচ্চাদের খিচুড়ি খাওয়াব। তিন দিন বিস্কুট খাওয়াব, তিন দিন রান্না করা খাবার খাওয়াব। ডিম, কলা ইত্যাদি নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি, যাতে বাচ্চাদের কিছুটা হলেও পুষ্টি দিতে পারি। সুন্দর স্বাস্থ্যবান শিশু না হলে পড়াশোনায়ও মনোযোগ দিতে পারে না।’

স্কুলের বাচ্চাদের জন্য রান্না করা খাবার ব্যবস্থাপনা দেখতে বিদেশে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব নিয়ে হইচই করার মতো অবস্থা নেই বলেও মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেকোনো বিষয়েই অভিজ্ঞতা নিতে হয়। অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করলে তার ফলও ভালো পাওয়া যায়।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪১ সালে কেরালায় স্কুলে মিড ডে মিল চালু করেছে। আমি সেখানে দেখে এসে পাইলটিং করেছি। আমি যদি উকিল হই আমি কি সিনিয়রের কাছে শিখবো না? মিড ডে মিলের বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ডিপিপিতে সামান্য কিছু টাকা রাখা হয়েছে। যারা এই কর্ম পরিচালনা করবে, যেখানে দীর্ঘদিন থেকে মিড ডে মিল দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কিছু শিক্ষা দেওয়ার জন্য। এটা কোনো খিচুড়ি রান্না শিক্ষা নয়। এটা ব্যবস্থাপনা জানার জন্য, শেখার জন্য, কীভাবে করছে। এ জন্য সামান্য কিছু টাকা ডিপিপিতে ধরা আছে।’