শিশুর চোখের সমস্যা প্রতিরোধে করণীয়

১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ০১:৪৭:৫৪
10
Print Friendly, PDF & Email

হেলথ ডেস্কঃ

চোখের সমস্যাটা আগে কেবল বয়স্কদের জন্য স্বাভাবিক হলেও এখন একদম উল্টো। স্কুলগামী বাচ্চারা তো বটেই এমনকি জন্মের সাথে সাথেই এই সমস্যা নিয়ে আসাও এখন অবাক করা কিছু না। স্বাভাবিকভাবেই এর পেছনে আছে আমাদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, মানুষের অনিয়ন্ত্রিত লোভ আর সময়ের হাত। এত মিষ্টি মুখগুলোর এমন পরিণতি নিশ্চয়ই আমরা কেউই চাই না। চলুন, আজ থেকে সচেতন হওয়া যাক।

করোনা সংক্রমণের কারণে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এখনও স্কুল থেকে শুরু করে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অনেক জায়গাতে আবার লকডাউনের পরপরই স্কুলে শুরু হয়ে গেছে অনলাইন ক্লাস। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়।  অনলাইন ক্লাসের কারণে তাই অনেক শিশুকে ঘণ্টার পর ঘন্টা মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে বসে  ক্লাস, কোচিং করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকলে অনেক শিশুরই চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা মাথায় যন্ত্রণা হতে পারে। এ কারণে মাঝে মধ্যে বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।  এছাড়া যারা এমনিতেই মাইনাস পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করে তাদের আরো সাবধান হতে হবে। তাদের মতে, যেহেতু অনলাইন ক্লাসের জন্য বড় স্ক্রিন অর্থাৎ টিভি বা ল্যাপটপ সবার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়, তাই ক্লাসের বাইরে অন্য সময়ে শিশুরা যাতে কম মোবাইল ব্যবহার করে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন তারা।

মোবাইল থেকে চোখ বাঁচাতে কিছু বিষয় অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন-

১.  অন্তত ৪০ সেন্টিমিটার দূর থেকে মোবাইল, ল্যাপটপ দেখা।

২.  ক্লাস চলাকালীন সময়ে মাঝে মধ্যে চোখে পানির ঝাপটা দেওয়া।

৩. দশ থেকে ১২ মিনিট পর পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে দূরে কিছু দেখা।

৪. মোবাইল ব্যবহার করলে বার বার চোখ পাতা ফেলার অভ্যাস করা।

৫. যে ঘরে পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায় সেই ঘরে অনলাইন ক্লাস করা। ঘর যাতে অন্ধকার না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৬.  ফন্ট সাইজ বড় করে, বড় স্ক্রিন অর্থাৎ টিভি বা কম্পিউটারে পড়াশোনা করার চেষ্টা করতে হবে।

৭. প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চোখের জন্য উপকারী ভিটামিন এ, ভিটামিন সি যুক্ত খাবার রাখতে হবে।