উন্মুক্ত জলাশয়ে হাঁস পালনে স্বাবলম্বী নওগাঁর জহুরুল

১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ০৭:৩৮:৫৫
28
Print Friendly, PDF & Email

আমিনুল জুয়েল, নওগাঁ:
সারাদিন জলকেলি আর ভেসে ভেসে সময় কাটে হাঁসের। হজম শক্তি ভাল থাকায় সকল কিছুর উপরেই ছোঁ পড়ে তাঁর। তবে, স্বর কর্কশ ও নোংরা প্রাণি বলে অনেকেই আবার পছন্দ করে না হাঁসকে। গৃহপালিত পাখি হিসেবেই পরিচিত সকলের কাছে। হাঁসের রোগবালাই তুলণামূলক খুবই কম। তাছাড়া এদের খাবার সরবরাহ করতে হয় খুবই কম। একটি দেশি হাঁস বছরে ৯০টির বেশি ডিম দিয়ে থাকে। আর উন্নত জাতের হাঁস ২৫০-৩০০টি ডিম দেয়।

বিলের মুক্ত জলাশয়ে হাঁস পালনে স্বাবলম্বী হয়েছেন আত্রাই উপজেলার বিশাস ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম। ঘুচিয়েছেন বেকারত্ব। আর সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা। তাঁর এমন উদ্দ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছে এলাকার অনেক বেকার যুবক। তাঁর কাছে আসছেন নানা ধরণের পরামর্শ নিতে। সকলের লক্ষ্য একটাই, গড়ে তুলবেন একটি হাঁসের খামার।

জহুরুল জানান, ’আমি ৫০০টি হাঁস দিয়ে এই খামার গড়ে তুলি। বর্তমানে তাঁর খামারে হাঁসের সংখ্যা ৩৫০০টি। যার আনুমাণিক বাজার মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। আমার খামারে বর্তমানে পাঁচজন শ্রমিক রয়েছে। আরও শ্রমিক এই খামারে কাজ করতে পারবে। আমার খামারটি আরও বড় করতে চাই, যাতে অন্য ভাগ্যহীন মানুষেরাও এখানে কাজ করতে পারে। ’

সবুর আলী নামে খামারটির এক শ্রমিক জানান, ’খামারের হাঁসগুলির দেখাশুনা করি। এখানে আমাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাই আমরা অন্য কাজের চিন্তা করিনা। খামারের মালিক সঠিকভাবে আমাদের বেতন দেন। এখানে কাজ করে আমরা সংসার চালাই।‘

এ ব্যাপারে উপজেলার প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুবাইয়েত রেজা জানান, আত্রাই উপজেলা নদী-নালা ও খাল-বিলে ভরপুর। এখানে অনেক উন্মুক্ত জলাশয় রয়েছে তাই বেকার যুবকরা হাঁসের খামার করে বেকারত্ব ঘোচানোর সুযোগ রয়েছে। খামারের জন্য আমরা উপজেলা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করে থাকি। এছাড়াও সকল ধরনের গবাদি পশুর জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। হাঁস পালনে স্বাবলম্বী জহুরুলের ন্যায় আরও কোন বেকার যুবক এগিয়ে আসলে আমরা তাঁদেরকেও সার্বিক সহযোগিতা করবো বলেও জানান এই কর্মকর্তা।