‘কর্মকর্তা লিখে দিলেন- ডটার অব লেট শেখ মুজিবুর রহমান’

১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ০৩:৪৭:০১
74
Print Friendly, PDF & Email

লায়েকুজ্জামান, ফেসবুক থেকে:
১৯৭৬ সাল। বঙ্গবন্ধুর দুই কণ্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা তখন দিল্লীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে।শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহেনাকে পড়াশোনার জন্য ভর্তির ব্যবস্থা করলেন শান্তি নিকেতনে। দিল্লী থেকে ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গে রওনা দেবেন এমন সময়ে ফোন আসলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার শেখ রেহেনার নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। শান্তি নিকেতনে আসা হলো না।

দুঃখের পর দুঃখ। বেদনার পর বেদনা। স্বাধীনতার পরের বছর ম্যাট্রিক পরীক্ষায় সারা বাংলাদেশের মধ্যে ১৩তম স্থান পাওয়া মেয়ে শেখ রেহেনার পড়াশোনা আর হলো না। বাসায় ফিরে দু’বোন অঝোরে কাঁদলেন। এরপর শেখ রেহেনা সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি লন্ডনে যাবেন। লন্ডনে গিয়ে সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগায়োগ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিষয়ে একটি আর্ন্তজাতিক কমিশন গঠনের চেষ্টা করবেন। সে চিন্তা করে একদিন পাশপোর্ট নিয়ে বাসে চড়ে গেলেন দিল্লীর বৃটিশ হাই কমিশনে। ভিসার জন্য ফরম পূরন করে জমা দিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলে দিলেন সাত দিন পর আসবেন। শেখ রেহেনা বের হয়ে এলেন। হাটতে হাটতে গেট পর্যন্ত এসে পড়েছেন। এমন সময়ে পেছন থেকে ডাক। ফিরে দেখলেন, একজন কর্মকর্তা দৌড়ে তার দিকে আসছেন। দাড়াঁলেন শেখ রেহেনা। ভদ্রলোক এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আর ইউ ডটার অব শেখ মুজিব?’ শেখ রেহেনা বললেন, ইয়েস। এবার কর্মকর্তা তাকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। এবার আরেকজন কর্মকর্তা তার সঙ্গে কথা বললেন। শেষে বলে দিলেন। আপনি আগামীকাল আসবেন।

শেখ রেহেনা পরের দিন গেলেন। কর্মকর্তা তার হাতে ভিসাসহ পাসপোর্ট ধরিয়ে দিলেন। পাসপোর্ট খুলে শেখ হাসিনা দেখলেন, পাসপোর্টে লেখা ‘ডটার অব লেইট শেখ মুজিবুর রহমান।’ বঙ্গবন্ধুর প্রতি বৃটিশদের সম্মান দেখে আবারো অঝোরে কাদঁলেন শেখ রেহেনা।

ভিসা তো হলো, এখন লন্ডনে যাবেন কিভাবে? বিমানবাড়া পাবেন কই। পরিচিত বহু লোকের কাছে চিঠি লিখেলেন কিছু টাকার জন্য, এমনও লিখলেন, কিছু টাকা দিন লন্ডনে গিয়ে চাকুরী করে শোধ করে দেবো। তারপরও কেউ এগিয়ে এলেন না। কিছু টাকা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কণ্যাকে সহযোগিতা করলেন না। ভেঙ্গে পড়লেন শেখ রেহেনা। শেষ পর্যন্ত গেলেন ইন্দিরা গান্ধীর কাছে। গান্ধীজী জানতে চাইলেন কেন লন্ডনে যাবে? শান্তি নিকেতনে কেন যাওনি? শেখ রেহেনা জানালেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি জানাছিলো না ইন্দিরা গান্ধীর।

শেষ পর্যন্ত সব শুনে লন্ডনে যাবার বিমানভাড়া দিলেন ইন্দিরা গান্ধী। লন্ডনে গিয়ে শেখ রেহেনা উঠলেন বঙ্গবন্ধুর ফুফাতো ভাই খোকা মিয়ার বাসায়। তারপর শুরু হলো জীবনের আরেক লড়াই। একটি চাকুরীর জন্য পথে পথে ঘুরতে থাকলেন শেখ রেহেনা। পথে-ঘাটে অনেক পরিচিতজনের সঙ্গে দেখা হলে তারা মুখ ফিরিয়ে নিতেন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক।