৬০ বছর পর নিহত নেতার দাঁত ফেরত দেবে বেলজিয়াম

10
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ
একটি দাঁত ছাড়া এর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না আততায়ীর হাতে নিহত ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গোর স্বাধীনতার নায়ক এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার মরদেহের। সেটিই এবার তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেলজিয়াম। খবর ডয়চে ভেলে, ডেইলি সাবাহ ও দ্যা গার্ডিয়ান’র।

বিষয়টি নিয়ে কয়েক দশক ধরে কঙ্গোর সঙ্গে বেলজিয়ামের দেনদরবার চলছিল। দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর অবশেষে জয় পেয়েছে লুমুম্বার পরিবার। বেলজিয়ামের এক আদালত তার মরদেহের অবশিষ্টাংশ কঙ্গোয় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার রায় দিয়েছে।

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ১৯৬০ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে সদ্য স্বাধীন কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন প্যাট্রিস লুমুম্বা। কিন্তু কয়েক মাস পরই সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান মোবুতু সেসে সেকো। তখন লুমুম্বাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

১৯৬১ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করে। এমনকি যাতে তার কবর তীর্থস্থানে পরিণত না হয় সেজন্য লুমুম্বার মরদেহও অ্যাসিডে পুড়িয়ে দেয়া হয়। মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার পর সেখানে উপস্থিত থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা সে দাঁত সরিয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

১৯৬০ সালের জানুয়ারিতে ব্রাসেলসের বিমানবন্দরে লুমুম্বাকে স্বাগাত জানানো হয়- দ্যা গার্ডিয়ান

এ দাঁত সত্যিই লুমুম্বার কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রয়োজন ডিএনএ টেস্ট। কিন্তু বেলজিয়ামের ফেডারেল প্রসিকিউটরের দপ্তরের মুখপাত্র এরিক ফন ডুয়েসে জানান, এই দাঁতের ডিএনএ পরীক্ষা করার উপায় নেই। তিনি বলেন, ‘এমন টেস্ট করতে গেলে দাঁতটাই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।’ বিচারকেরা অবশ্য যেখান থেকে এই দাঁত উদ্ধার করা হয়েছে তাতে এটি যে লুমুম্বারই তা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ডুয়েসে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

প্যাট্রিস লুমুম্বার মেয়ে জুলিয়ানা জানিয়েছেন, এই রায়ে তার পরিবার অনেক খুশি হয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘এটা একটা দারুণ বিজয়। যে দেশ ও দেশের স্বাধীনতার জন্য আমার বাবা প্রাণ দিয়েছেন। মৃত্যুর ৬০ বছর পর তার মরদেহের অবশিষ্টাংশ তার পূর্বপুরুষের মাটিতে ফেরত আসছে।’

প্যাট্রিস লুমুম্বার ছেলে ফ্রাঁসোয়া লুমুম্বা বলেছেন, ‘তিনি মনে করেন বেলজিয়াম সরকারের উচিত দ্রুত এই দাঁত কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া।’

স্বাধীনতার পর কঙ্গো কেমন হতে পারত তার প্রতীক হিসেবে লুমুম্বাকে দেখে থাকেন অনেকে। দেশটিতে তার মৃত্যুর সঙ্গেই গণতন্ত্রের সব আশা শেষ হয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে। আফ্রিকা মহাদেশের ইতিহাসে লুমুম্বার হত্যাকাণ্ডকে বড় একটা ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করায় তাকে উৎখাতে সেনা অভ্যুত্থান ও পরবর্তীতে হত্যায় বেলজিয়াম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকা নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে।

পরবর্তীতে বেলজিয়ান পার্লামেন্টের এক তদন্তে লুমুম্বার মৃত্যুতে সরকার ‘নীতিগতভাবে দায়ী’ বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৯৭৫ সালে মার্কিন সিনেট কমিটি প্রমাণ পায় সিআইএ লুমুম্বাকে হত্যার বিফল চেষ্টা চালিয়েছিল।