শান্তি আলোচনার আনুষ্ঠানিকতা শুরু: মূল আলোচনা আগামীকাল

১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ১২:০৬:৪৫
6
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
দুই দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে প্রথমবারের মতো আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা হচ্ছে। কাতারের রাজধানী দোহায় গতকাল শনিবার থেকে এ আলোচনার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মূল আলোচনা হবে আগামীকাল সোমবার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এসব তথ্য জানিয়েছে।

উদ্বোধনী দিনে আফগান সরকারের প্রতিনিধিদল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করেছে। আর তালেবানের দাবি, আফগানিস্তানে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করা। দুই দশকের রক্তঝরা দুঃসহ দিনগুলো ভুলে শান্তি ফেরাতে ঐতিহাসিক এই বৈঠক। ঐতিহাসিক বলার কারণ হলো, দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে প্রথমবার আলোচনায় বসেছেন আফগান সরকার ও তালেবান প্রতিনিধিরা। কয়েক মাস পেছানোর পর কাতারের রাজধানী দোহায় এই দরকষাকষির আলোচনা।

আফগান সরকারের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান মাসুম স্টানেকজাই। আর তালেবানের পক্ষে মৌলভি আবদুল হাকিম, যিনি সশস্ত্র সংগঠনটির প্রধান বিচারপতি। আলোচনায় উদ্বোধনী দিনের আফগান সরকার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়; আর তালেবানের দাবি, ইসলামী শাসন ব্যবস্থা চালু করা।

আফগান সরকারের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, ‘যুদ্ধের দুয়ার বন্ধ করে ভালো কিছুর প্রত্যাশা থেকে এখানে একত্র হওয়া। স্বদেশি যাঁরা ভিন্ন চিন্তা ধারায় বিশ্বাসী, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছাতে চাই। বিতর্ক-বিভেদ ছেড়ে ভালো মানসিকতা নিয়ে এখানে আসার মূল উদ্দেশ্যই হলো দুপক্ষের স্বার্থ ধরে রেখে আফগানিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।’

তালেবান প্রতিনিধি মোল্লা আবদুল গনি বলেন, ‘স্বল্প কিছু মানুষের সুবিধার কথা না ভেবে সব পক্ষ লাভবান হবে এমন বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দরকষাকষির এ প্রক্রিয়া মতভেদ থাকতে পারে। আমরা আফগানবাসীকে আশ্বস্ত করছি, দেশে শান্তি আর স্থিতিশীলতা ফেরাতে পুরোপুরি বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করব।’

যে নাইন/ইলেভেন হামলার জেরে আফগানিস্তানে যুদ্ধ পরিস্থিতির সূত্রপাত, সেই হামলার ১৯ বছর পূর্তির পরদিন ঐতিহাসিক এই বৈঠকে যোগ দিতে কাতারে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। শুরুর বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক এ আলোচনা সফল করতে হলে কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগ প্রয়োজন। বৈঠক সফল করতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জাতিসংঘ ও ন্যাটো।’

তালেবান নেতা মোল্লা বেরাদার আখন্দ বলেন, আফগানিস্তানে এমন একটি ইসলামী পদ্ধতি দরকার, যাতে দেশের সব জাতিসত্তার মানুষ বিনা বৈষম্যে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসায় দিনযাপন করতে পারে।’

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের নিরাপত্তা চুক্তির পর এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিতর্কিত এক তালেবান নেতার মুক্তি নিয়ে মতভেদের জেরে কয়েক দফায় পেছায় বৈঠক।