‘যুবরাজ সালমানকে আমি বাঁচিয়েছি’

১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ১১:৪২:০০
9
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ
২০১৮ সালে অক্টোবরে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে রক্ষা করেছেন, এ বিষয়টি নিয়ে দাম্ভিকতার সঙ্গে স্বীকারোক্তি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুসন্ধানী সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের প্রকাশিত নতুন বইয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মার্কিন সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডকে এক সাক্ষাৎকার দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মার্কিন কংগ্রেসের হাত থেকে সৌদি যুবরাজ সালমানকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলাম।’

তবে সালমান খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে দেখা যায় যুবরাজ সালমানের নির্দেশেই সাংবাদিক খাশোগিকে হত্যা করা হয়। পরিকল্পিত ওই বর্বর হত্যাকাণ্ডে সালমানের নির্দেশেই সৌদি কর্মকর্তারা সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে এমন খবর প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

প্রকাশিতব্য বইটির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৮টি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বব উডওয়ার্ড। তাকে দেয়া ট্রাম্পের কিছু বক্তব্যের অডিও রেকর্ড বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর ছড়িয়ে পড়ে।

বব উডওয়ার্ড তার বইতে লিখেছেন, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে যোগ দিয়ে ফিরে আসার কয়েক দিনের মধ্যে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি তাকে ডেকে পাঠান ট্রাম্প। ওই সময়ের আলোচনায় খাশোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রেসিডেন্টকে চাপ দেন উডওয়ার্ড।

ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিজের বিয়ের কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। সৌদি বিশেষ একটি দল ইস্তাম্বুল কনস্যুলেটে জামাল খাশোগিকে হত্যা করে তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে। ওই কনস্যুলেটের এক কর্মী তুরস্কের আদালতে গত ৩ জুলাই জানিয়েছেন, খাশোগি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের একঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাকে চুলা জ্বালাতে বলা হয়।

তুর্কি আদালতে সৌদি আরবের ২০ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তাদের বিচারকাজ চলছে। বিচারকাজের অগ্রগতি হিসেবে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় জড়িতদের ৭ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিস। পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিসের বরাতে সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, হত্যার দায়ে ৫ জনকে ২০ বছর এবং বাকি তিন জনকে সাত থেকে ১০ পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় জানা যায়নি।