রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিএনপি, কিন্তু কেন?

৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ০৯:৫১:৩৫
5
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
বিপুল কর্মী-সমর্থক থাকা স্বত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বিরোধসহ নানা জটিলতায় রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। জনগণের অধিকার কিংবা দলীয় দাবি কোনোটাই আদায়ে মাঠে সক্রিয় নয় দলটি। অবশ্য দলটির শীর্ষ নেতারা এ হতাশা আর নিষ্ক্রিয়তার জন্য সরকারের দমন-পীড়নকে দায়ী করছেন। আর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগের দাবি, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এ দশা।

এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনেও চরমভাবে বিপর্যয়। না মাঠে, না কৌশলে কোনোভাবেই সক্রিয় হতে পারছে না বিএনপি। এছাড়া জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন দলটিকে যেমন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে, তেমনি দলের সর্বোচ্চ নেতাকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে না পারার ব্যর্থতা অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে দলটিকে।

এ অবস্থার জন্য সরকারের দমন নীতির দোহাই দিলেও ভবিষ্যতের আন্দোলনে আশার আলো দেখছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

নেতাদের অভিযোগ, রাজপথে থাকার জন্য কোনো স্পেস নেই। আমরা কম চেষ্টা করি নাই। দলের মহাসচিবের কোল থেকে অস্ত্রধারীরা নেতাকর্মীদের চিনিয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি বলে; আমাদের বিরুদ্ধে এক লাখ মামলা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সহিংসতা আর জনবিচ্ছিন্নতায় জনগণের আস্থা হারানো দলটিই এখন দলছুট।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, যারা দুর্নীতিবাজ তাদের বিএনপি থেকে বাদ দেয়া দরকার। এবং যারা সন্ত্রাসী মানুষ মেরেছে; তাদের থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আর বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে এ দেশের রাজনীতি করতে হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন, কেবল সংবাদ সম্মেলন, ঘরোয়া বৈঠক এবং বিবৃতির মধ্যে আটকে থাকা এ দলটির কি এভাবে রাজনৈতিক অর্জন সম্ভব?

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জন-সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে আন্দোলন গড়া ছাড়া পটপরির্বতন সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ককটেল মেরে মানুষে খেপিয়ে আন্দোলন করা সম্ভব না। মানুষকে দেখাতে সত্যিকার অর্থে মিনিংপুল প্রতিবাদ করতে হবে।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে সবশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে হরতাল ডেকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে দলটি। সেদিন পুলিশ ৩০ মিনিটের সময় বেঁধে দিলেও ৩ মিনিটেই গুটিয়ে নেয় কর্মসূচি।