মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬ জন

৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ১২:২৬:০৫
11
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে মৃতদের সংখ্যা। লম্বা হচ্ছে স্বজন হারানোদের তালিকা। এখনো বহু মানুষের জীবন সংকটে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।

মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

রোববার রাতে আবুল বাশার ও মনির হোসেন ফরাজি নামে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে আরো ১১ জন।

ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ দগ্ধ আরও বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় রোববার জাতীয় সংসদে শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাস লাইনের ওপর দিয়ে কীভাবে নকশার অনুমোদন হলো- তা তদন্ত করে দেখা হবে।

পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে কেউ মসজিদ নির্মাণ করেছে কি না- তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের মসজিদে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, যারা বেঁচে আছেন তাদের জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বলেন, গ্যাসের লাইনের উপরেই নাকি এই মসজিদটি নির্মিত। সাধারণত যেখানে গ্যাসের লাইন থাকে সেখানে কোনো নির্মাণ কাজ হয়না। জানিনা রাজউক এখানে পারমিশন দিয়েছে কিনা। সেটা দিতে পারেনা। অপরিকল্পিত কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলে তাতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যেখানে মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে সেসব জায়গায় স্থাপনা করা যাবে কিনা, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কিনা বা সেভাবে নকশা করা হয়েছে কিনা সেসব দেখা একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে।

শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে অর্ধশত মানুষ দগ্ধ হয়। যাদের মধ্যে গুরুতর ৩৬ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল।

এশার নামাজের সময় ঘটা ওই বিস্ফোরণে দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তাদেরকে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটে ভর্তি করা হয়।

বিস্ফোরণে মসজিদের ভেতর আগুন জ্বলে উঠে এবং কাঁচ ভেঙে মুসল্লিরা আহত হয়। মসজিদের ভেতরের ৬টি এসি দুমড়ে মুচড়ে গেছে। ২৫টি সিলিং ফ্যানের পাখা বাঁকা হয়ে গেছে।

প্রাথমিকভাবে মসজিদের এসি থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও পরে ফায়ার সার্ভিস জানায়, ওই মসজিদের নিচ দিয়ে যাওয়া গ্যাস পাইপ লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে।