রাজধানীতে পৃথক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু

৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ || ০৮:১১:৫৮
9
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
রাজধানীতে পৃথক বিদুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় এক প্রকৌশলীসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে দুপুরের মধ্যে ডেমরা, হাজারীবাগ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তিরা হলেন—প্রকৌশলী সাকিবুর রহমান (৩২), শ্রমিক মো. বিশাল (১৭) এবং শ্রমিক নয়ন হাওলাদার (৪০)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ তিনটি ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট থানাকে অভিহিত করা হয়েছে।

ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এরাকায় তৃতীয় তলার নিজ বাসার আন্ডারগ্রাউন্ডে যান প্রকৌশলী সাকিবুর রহমান (৩২)। সেখানে পানি জমা ছিল। তিনি বৈদ্যুতিক সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পানিতে পরে যান। সেখান থেকে উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে এলে দুপুর সোয়া ২টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের বড় ভাই আতিকুর রহমান এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, সাকিবুর চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স-এ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে স্যামসাং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পূর্ব পাইটি এলাকার মৃত খাইরুজ্জামানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম ফারজানা।

এদিকে, যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে রবিবার সকাল ১০টার দিকে নির্মাণাধীন তিন তলা ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিক নয়ন হাওলাদার নিচে পড়ে যান। সহকর্মীরা অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের মামা মো. হাবিব এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নয়ন পেশায় রড মিস্ত্রি ছিল। নির্মাণাধীন তিন তলা ভবনে বাহিরের পাশ দিয়ে বাঁশ নামাতে গিয়ে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে জানান। নয়ন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার কলাগাইছা গ্রামের মৃত রব্বান হাওলাদারের ছেলে। বর্তমানে সে ধলপুর এলাকায় থাকতো।

অপরদিকে, হাজারীবাগের ঝাউচর এলাকার জামিয়াতুল বেলাল মাদ্রাসায় থাই লাগানোর কাজে সরঞ্জাম নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশের পথে দুপুর ২টার দিকে বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে থাই অ্যালমুনিয়াম সংস্পর্শে বিদুৎস্পৃষ্ট হয় মোহাম্মদ বিশাল (১৭)। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে বেলা ৩টায় চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের চাচা মো. মাসুদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। বিশাল লালবাগ নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ এলাকার আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে।