একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অনলাইন আন্তর্জাতিক সম্মেলন যা বললেন বক্তারা

৩১ই Auguই, ২০২০ || ১০:৩৩:৪৬
21
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও চীনের ভূমিকা সম্পর্কে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সোমবার এক অনলাইন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংগঠনের সভাপতি লেখক, সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে বক্তব্য দেন- নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মাণিক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ আমজাদ হোসেন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশীদ (অব.), মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শফিকুর রহমান এমপি, সমাজকর্মী আরমা দত্ত এমপি, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুণ হাবীব, ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, নির্মূল কমিটির চিকিৎসা সহায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল এবং উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার নির্মূল কমিটির বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির প্রারম্ভিক ভাষণে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তান, চীন ও আমেরিকার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ কখনও বিজয়ী হতে পারত না, যদি না শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতের সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীসহ সর্বস্তরের জনগণ আমাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান না করত। বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য ৩০ লক্ষ বাঙালিকে যেমন জীবন দিতে হয়েছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৭ হাজার সৈন্যকেও তাদের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে, যা বিশ্বের অন্য কোনও জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঘটেনি। চীনের মদদ ছাড়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে স্মরণকালের নৃশংস গণহত্যা কখনও সংঘটিত করতে পারত না, পক্ষান্তরে ভারত গণহত্যার ভিকটিম বাংলাদেশের এক কোটি মানুষকে মুক্তিযুদ্ধকালে আশ্রয় দিয়ে মানবতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চীন কখনও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপ্রাপ্তির বিরুদ্ধে বার বার ভেটো দিয়েছে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমরা যেন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ও জাতির পিতাকে ভুলে না যাই।’

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাকিস্তান ও চীনের মদদ ছিল এ কথা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। দু সপ্তাহ আগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ প্রদর্শন করে চীনা রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য নায়ক জেনারেল জিয়ার সহধর্মিনী দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার ভূয়া জন্মদিনে শুভেচ্ছাসহ উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন। বিনিয়োগের নামে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশে উপনিবেশসুলভ কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চাইছে চীন। চীনের বিনিয়োগ রাজনীতি ও দুরভিসন্ধি সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

নির্মূল কমিটির এ সম্মেলনে ’৭১-এর যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ আমজাদ হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা এবং নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যার জন্য চীনা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। আমার হাজার হাজার সহযোদ্ধা চীনা বুলেটের দ্বারা শহীদ হয়েছেন কিংবা আমার মতো আহত হয়ে শারীরিক পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। আমার শরীরে এখনও চীন বুলেট রয়ে গেছে। অন্যদিকে আমাকে এবং আমার মত শত শত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে ভারত সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা প্রদান করে বাঁচিয়ে তুলেছে। ভারতের কাছে আমাদের এই ঋণ কখনও অর্থ বা অন্য কিছু দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না।’

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন আছে। কিন্তু চীনের অর্থনৈতিক সহায়তাকে পৃথিবীতে অনেক অর্থনীতিবিদ ঋণের ফাঁদ হিসেবে বর্ণনা করেন। অর্থনীতির বিষয়টি রাজনীতির বাইরের কোনো বিষয় নয়। আর এর সঙ্গে দুর্নীতি যদি যুক্ত হয় সেটা একটা নতুন মাত্রা পায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেন প্রকল্প নিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন যোগাযোগ সচিব নজরুল ইসলামকে ঘুষ দিয়ে ধরা পড়েছে চীনা এক কোম্পানি চায়না হারবার এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। একই কোম্পানি বেগম জিয়ার প্রয়াত পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য ২০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিল। সিঙ্গাপুরের জাস্ক করপোরেশনের অ্যাকাউন্টে কোকোর এই টাকা জমা হয়েছিল। এই মামলাটি এখনো দুদকে বিচারাধীন আছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এ ধরনের দুর্নীতিবাজ চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে এখনো কাজ করছে। বিভিন্ন দেশের অভিযোগ, চীনারা ঘুষ দিয়ে কাজ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রশাসন তথা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তুলছে।’