অনলাইন ক্লাস: ফ্রি এমবি পাবেন শাবির শিক্ষার্থীরা!

৩১ই Auguই, ২০২০ || ০৩:২৮:৩৯
8
Print Friendly, PDF & Email

সিলেট থেকে করসপন্ডেন্ট:
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে বন্ধ আছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস। চরম দুশ্চিন্তায় আছেন শিক্ষার্থীরা। কবে খুলবে বিশ্ববিদ্যালয় আর কবেই বা হবে পরীক্ষা? শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করেছে। আর এই অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাড়া মিলেছে এমনটা দাবি করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ ক্লাসের ব্যবস্থা করে সকলের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হবে পরীক্ষা। হবে না কোনও সেশন জট। চলমান করোনা পরিস্থিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গণমাধ্যম এর সঙ্গে একান্ত আলাপকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমদ জানান, করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যেন সেশন জটের মধ্যে না পড়ে এজন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নেই। আর অনলাইন ক্লাসে প্রায় সকল শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইনে ক্লাস করতে গেলে যাদের বাসায় ওয়াফাই নেই তাদের এমবি কিনতে হবে। এজন্য আমরা জিপির সঙ্গে যোগাযোগ করে শাবির দুই হাজার দুই শত ১৬ জন শিক্ষার্থীদেরকে ১৫ জিবি করে ফ্রি ইন্টারনেট দেওয়া হয়েছে, যা চলমান থাকবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়শত শিক্ষার্থীদেরকে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে অনলাইনের ক্লাসের সকল লজিস্টিক সামগ্রী কেনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০ জন শিক্ষককে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। যারা তরুণ শিক্ষক রয়েছেন তাদেরকে বিনা সুদে ল্যাপটপ ক্রয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে সহজ শর্তে লোন দেওয়া হয়েছে। আর বন্যাদুর্গত এলাকায় শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি চলমান আছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট থেকে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ জঙ্গিদের মধ্য দুইজন শাবির শিক্ষার্থী, জঙ্গি নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় কি ভূমিকা রাখছে এমন প্রশ্নে জবাবে ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও সীমানা প্রাচীর ছিল না এজন্য যেকোনো সময় যে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারত ইতোমধ্যে আমার সীমানা প্রাচীর তৈরি করেছে, প্রত্যক শিক্ষকদেরকে বলা হয়েছে যদি ক্লাসে কোনও শিক্ষার্থীকে অন্যমনস্ক দেখা যায় বা তার মধ্যে কোনও অস্বাভাবিক কোন আচরণ দেখা যায় তাহলে যতো দ্রুত সম্ভব পুলিশকে জানানোর জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গি কার্যক্রমে না জড়ায় এজন্য কাউন্টার টেরিজিম ইউনিটের সঙ্গে কথা বলে ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি সেমিনার করা হয়েছে। জঙ্গি নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্সে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। যা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।