মৌসুম শেষের পথে, লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চালও সংগ্রহ করতে পারেনি কুষ্টিয়ার খাদ্য বিভাগ

২৯ই Auguই, ২০২০ || ০৩:৫৮:০৭
14
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
মৌসুম শেষ হতে চললেও লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চালও সংগ্রহ করতে পারেনি কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য বিভাগ। ধান সংকট ও চালের দাম বাড়ার অজুহাতে সরকারি গোডাউনে সরবরাহ করতে অনীহা মিল মালিকদের।

এদিকে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকরা চাল দিতে ব্যর্থ হলে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য বিভাগ।

বোরো মৌসুমে চালের বড় একটি চালান কুষ্টিয়া থেকে সংগ্রহ করে সরকার। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। শুধু সদর উপজেলা থেকে লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। চাল সরবরাহের জন্য ৪ শতাধিক মিল মালিক চুক্তি করলেও সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার মেট্রিক টনের সামান্য বেশি। সরকারি গোডাউনে চাল না দিলেও স্থানীয় মোকামে চালের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। এতে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিপাকে রয়েছেন ভোক্তারা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, ‘চাল দেওয়ার জন্য আমরা চুক্তিব্ধ। কিন্তু আমরা লসে পড়েও চাল দিতে বাধ্য এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এরপরও সরকার যদি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে তো সরকার নিবে।’

এদিকে, খাদ্য সংগ্রহ অভিযান সফল করতে কাজ করছেন জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ তাদের। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, ‘একটা পর্যবক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে লাগামহীন দরের উর্দ্ধগতিকে মনে হয় চেপে ধরা যায়।’

চুক্তি করেও যেসব মিল মালিক চাল দিতে ব্যর্থ হবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম তাহসিনুল হক বলেন, ‘বাজার যাচাই করে আমাদের একটা বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বাজার পর্যবেক্ষণ অব্যাহত আছে।’

চলতি বছর সরকার প্রতি কেজি মোটা চালের দাম নির্ধারণ করেছে ৩৬ টাকা। তবে দাম বেড়ে মিলগেটে বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়। ৩১ আগস্ট শেষ হচ্ছে বোরো সংগ্রহ অভিযান।