প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশনের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২৭ই Auguই, ২০২০ || ০২:৪৬:০৫
13
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
করোনা পরিস্থিতিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি বুঝতে পারছে সরকার, এজন্য প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশনের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দুটি পাওয়ার প্ল্যান্ট উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।

নোয়াখালীর একজন উপকারভোগী ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্কুলে ক্লাস বন্ধ থাকার পরও টেলিভিশনের মাধ্যমে অনলাইন ও পাঠদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি আমাদের শিক্ষার্তীদের সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে। এতোদিন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ ক্লাস হচ্ছে না, পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু এটা কিছু করারও উপায় নেই।কারণ এটা শুধু বাংলোদেশ না সারা বিশ্বব্যাপী এই একই সমস্যা, সবাই এই সমস্যায় ভুগছে। তবুও আমরা টেলিভিশনের মাধ্যমে বা অনলাইনে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি সব শিক্ষার্থীদের বলবো অন্তত বই টইতো সাথে আছে ঘরে বসে যেন কিছু পড়াশোনা করুক। তারপর দেখি আমরা কি করতে পারি। কারণ সামনে ফাইনাল পরীক্ষা, পরীক্ষা তো আর হবে না, আরো কি করা যেতে পারে, প্রমোশনটা দিয়ে পড়াশোনাগুলো যেন চলতে পারে আমরা আরো চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দেয়ার পর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন।

এসময় তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সারসংক্ষেপ এখনও না আসলেও সিদ্ধান্ত এসেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে পঞ্চম শ্রেণি ও এবতেদায়ী পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বিদ্যালয় খোলার পর স্কুলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করা হবে শিক্ষার্থীদের। স্কুল কর্তৃপক্ষই পরীক্ষার মডেল ঠিক করবেন, অর্থাৎ এমসিকিউ নাকি লিখিত প্রশ্নে পরীক্ষা হবে। এছাড়া, পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষাও হবে না এ বছর। তবে থাকবে উপবৃত্তি। আর স্কুল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে আগামী বৃহস্পতিবার।

এরও আগে গত মঙ্গলবার সপ্তাহে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা বাতিলে সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এতে এই দুই পরীক্ষার পরিবর্তে স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা বাতিল করা হলে এ বছরের জন্য মেধাবৃত্তিও না দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে সেটি আজ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

পিইসি ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা এ বছরের জন্য বাতিল করে সময় থাকলে স্কুলে ও মাদ্রাসায় বার্ষিক পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবে মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৭১টি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ৪০৬টি বিষয়ভিত্তিক পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত। ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত সিলেবাসের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পড়ানো সম্ভব হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের অবশিষ্ট অংশ শেষ করতে কমপক্ষে ৫০ কর্মদিবস দরকার। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পাঠদান কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলেও ৫০ কর্মদিবস পাওয়া যাবে না।

এতে আরও বলা হয়, করোনাভাইরাসের বিদ্যমান প্রাদুর্ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। খুলে দেয়া হলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে নাও পাঠাতে পারেন। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর ভাইরাস পরিস্থিতিতে পুনরায় বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অন্যদিকে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর টেলিভিশনে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশন পাঠদানের সুযোগটি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি বেতারে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাঠদানের আওতায় আসতে পারে। এছাড়া ৭৬ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লেখাপড়ার বিষয়ে কথা বলতে পেরেছে।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।