চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ, ভারতের বিমান ঘাঁটি ও আব্দুল কালাম আইল্যান্ডে নজর চীনের

২৩ই Auguই, ২০২০ || ০৯:৩৭:২৯
16
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
ভারতের সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরেই চীনের সংঘাত চলছে। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের আশেপাশে এখনও চীন সেনার আনাগোনার খবর উঠে আসে মাঝে মধ্যে। এরইমধ্যে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নাকি নজর রাখছে চীন।

সম্প্রতি স্যাটেলাইট ইমেজ খতিয়ে দেখে এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী মিয়ানমারের সীমানার কাছেই নাকি রয়েছে চীনের রাডার আর তাতেই উঠে আসছে ভারতের তেজপুর বিমানঘাঁটি ও ডক্টর আব্দুল কালাম আইল্যান্ডের ছবি।

এই দুটি জায়গায় ভারতের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন বলছে, মিয়ানমারের সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে চীনের উনান প্রদেশের কাউন্টিতে রয়েছে চীনের সেই রাডার।

এমনকি ভারতকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করার জন্য মিয়ানমারের আকাশসীমা ব্যবহার করতে চীন দুবার ভাববে না বলেও মনে করা হচ্ছে।

আসামের এই তেজপুর বিমানঘাঁটি, সালোনিবাড়ি এয়ারপোর্ট নামে পরিচিত। এটি একদিকে যেমন সামরিক বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হয়, অন্যদিকে, বেসামরিক বিমানের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এই বিমানঘাঁটি। এখানে রয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুখোই এয়ারক্রাফট।

অন্যদিকে, মিসাইল পরীক্ষার জন্য আব্দুল কালাম আইল্যান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাবেক রাষ্ট্রপতির নামাঙ্কিত এই আইল্যান্ড থেকে একাধিক মিসাইল টেস্ট করেছে ভারত, যার মধ্যে অন্যতম অগ্নি মিসাইল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চ মাসের ২০১৮ সালের পর এই নতুন রাডার স্টেশন তৈরি করে। ভারতের সঙ্গে ডোকলামে সংঘাত হওয়ার পরই এই স্টেশন তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

স্যাটেলাইট ইমেজ দেখা যাচ্ছে, ১৩ মিটার চওড়া একটি রাডার ওই স্টেশনে রাখা আছে যা ডক্টর আব্দুল কালাম আইল্যান্ডে নজর রাখছে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাডার সাইট থেকে ভারতের এই আইল্যান্ড ১ হাজার ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সাম্প্রতিক আরও একটি স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে তেজপুর বিমানঘাঁটি দিকে সরাসরি নজর রেখেছে, যা স্টেশন থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এদিকে, জম্মু কাশ্মীরে অশান্তি ছড়াতে উঠে পড়ে লেগেছে ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশ। এবার কাশ্মীরের স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে চীনের সাহায্য নেবে পাকিস্তান। জানা গেছে, চীনে তৈরি ইউএভি বা মানবহীন ড্রোন সীমান্তে মোতায়েন করবে পাকিস্তান, যাতে নজরদারি চালানো যায় ভারতের ওপর।

নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এই ড্রোনগুলো রাখা হবে। ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, প্রচুর এরকম চীনা ড্রোন কিনেছে পাকিস্তান। এই ড্রোনগুলো হল সি এইচ-৪। জানা গেছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ জাফর ইকবালের নেতৃত্বে ১০ জন সেনা সদস্য চীন সফর করেন। এই ড্রোন কেনা নিয়ে কথা বলতেই তারা বেইজিংয়ে যান বলে খবর।

চীনের এয়ারোস্পেস লং মার্চ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোম্পানি এই মানবহীন ড্রোনগুলোকে বানাচ্ছে। তারা পাকিস্তানের হাতে এগুলো তুলে দেবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরেও এই ড্রোনগুলোর উৎপাদন দেখতে চীন সফরে গিয়েছিলেন ইকবাল। তখনই ২০২০ সালে পাকিস্তানের হাতে ড্রোনগুলো তুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়।
সূত্র: কলকাতা২৪