আগন্তুক— কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যেরও মাঝার

২০ই Auguই, ২০২০ || ০৩:৩৭:৩৭
14
Print Friendly, PDF & Email

কালচারাল ডেস্ক, মুভি রিভিউঃ

আগন্তুক বলতে আমরা বুঝি অচেনা কেউ, ভালো-মন্দ যেকোন রূপই হতে পারে। একটা সারপ্রাইজের মতো। সিনেমাটা যেহেতু সত্যজিৎ রায় বানিয়েছেন তাই আপনাকে ভাবতে হবে আরও উচ্চ পর্যায়ের কিছু। আমরা যে দেয়াল তুলে ঘর বানালাম সেটাও কি ঠিকানা হলো? নাকি জীবন আর যাযাবর শব্দটাই সবচেয়ে কাছাকাছি? চমৎকার একটা সময় কাটাতে চাইলে অবশ্যই দেখবেন ‘আগন্তুক’।

সিনেমাটা মুক্তি পায় ১৯৯১ সালে। উল্লেখ্য, এটাই সত্যজিৎ রায়ের শেষ সিনেমা। তারই লেখা অতিথি গল্প থেকে বানিয়েছেন। সিনেমাটা শেষ করলেই শেষ হবে না। আপনার মাথার ভেতর ঘুরবে। কি দারুন একটা গল্প, আর তার বুনন। অল্প কয়েকটি চরিত্র, অথচ মনে হচ্ছে না আরও কেউ দরকার ছিল। মনে হচ্ছে না, দর্শককে আটকে রাখার একটা উপাদানেরও অভাব আছে।

সিনেমার একটি দৃশ্য

কাহিনী সংক্ষেপঃ

কলকাতায় বসবাসরত একটি উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবার, বাবা সুধীন্দ্র বোস, মা অনীলা এবং একটি ছোট ছেলে। হঠাৎ একদিন অনীলার কাছে একটি চিঠি আসে, ৩৫ বছর আগে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া তার ছোট মামার কাছ থেকে। ৩৫ বছর পর তিনি ফিরে আসছেন, কিছুদিন কলকাতায় তাদের বাড়িতে থাকতে চান।

১৯৫৫ সালে মামা যখন দেশ ছাড়েন তখন অনীলার বয়স মাত্র ২ বছর, তাই এ নিয়ে তার কোন স্মৃতিই নেই। তাছাড়া বর্তমানে এই ছোট মামার রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় বলতে একমাত্র সেই। সুতরাং তার পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার কোনই উপায় নেই। স্বামী প্রচণ্ড সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠে যা কিছুটা ভর করে স্ত্রীর উপরও। আর ছোট ছেলেটি শুরু থেকে সম্ভাব্য জাল দাদুর আগমনে রোমাঞ্চ অনুভব করতে থাকে। আগন্তুক মামা মনোমোহন মিত্র কলকাতায় পৌছানোর পরই কাহিনী শুরু হয়।

সিনেমাটি দেখতে পারবেন এখানে-

সেই আগন্তুক মামা’র চরিত্রে উৎপল দত্ত করেছেন অসামান্য অভিনয়। হয়তো সবচেয়ে বড় বিষয় তিনি যা বলেছেন, যা আমাদের মস্তিষ্কে দিয়েছেন। এই সিনেমাটাই একটা বিপ্লব। ধর্ম, ঈশ্বর, সভ্য, অসভ্য, বিজ্ঞান, বিশ্বাস সমস্ত কিছুকে তিনি দিয়েছেন নতুন এক মাত্রা, চিন্তার এক বিশাল জগত। যা দেখে অজান্তেই মাথা নুইয়ে আসে স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়ের প্রতি।

নিউজ’বি রেটিংঃ ৮.৫