কেন,ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হল “ভারতরত্ন” উস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়ি!

২০ই Auguই, ২০২০ || ১২:২০:৪৬
51
Print Friendly, PDF & Email

কালচারাল ডেস্ক:
সুযোগ ছিল অন্য কোনও বিলাসবহুল জায়গায় ঠাঁই নেওয়ার। সুযোগ ছিল হেলায় সব ছেড়ে পশ্চিমা কোনও দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করবার। কিন্তু তিনি ভারতরত্ন উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান। ভারতের উচ্চাঙ্গ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। সানাইকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বাদনের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে এই অমর শিল্পী ভারতের উচ্চাঙ্গ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতে ওস্তাদ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে তিনি তৃতীয় যাঁরা ভারতরত্ন পদক পেয়েছেন। তিনি ছিলেন অল্পসংখ্যক গুণীদের মধ্যে একজন যিনি ভারতের চারটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকে সম্মানিত হয়েছেন।

ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে একদিন রাগ মঙ্গলধ্বনি রচনা করেছিলেন, তিনি নিজের ভিটেমাটিটুকুকেই একান্ত আপন বলে জানতেন। আজ সেই ভিটেই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হল। ভাঙ্গা পড়া বাড়ির একাংশের মধ্যেই রয়েছে উস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের রেওয়াজের ঘর। অভিযোগ, প্রয়াত কিংবদন্তি সানাইবাদক উস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়ির এই ভাঙ্গা অংশেই তাঁর আত্মীয়রাই শপিং মল বানাতে চায়।

উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান প্রয়াত হন ২০০৬ সালে। তার ভক্তরা চেয়েছিলো সানাইবাদকের স্মৃতি বিজরিত এই বাড়িটি মিউজিয়াম হোক। হেরিটেজ তকমা পাক বিসমিল্লাহ‘র ভিটা । কিন্তু ওই চাওয়াটুকুই যেন সব, কিন্তু এগিয়ে আসেনি উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন বা ভারত সরকার। গত ১২ অগাস্ট সেই স্বপ্নটুকুরও মৃত্যু হল। অক্লেশেই ভাঙ্গা হল বিসমিল্লাহ’র রেওয়াজের ঘর।

১৯৩৬ সালে এই ঘরটিতেয় এসে ওঠেন বিসমিল্লাহ খান। শুধু বিসমিল্লাহ’ই নয়, তিনি এ বাড়িতে আসার আগে থাকতেন ওস্তাদ রেহমত খাঁ। গত ১২ অগাস্ট এই স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির অংশবিশেষ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে হাত কাঁপেনি কারও। বাধা আসেনি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও।

সমস্ত ঘটনায় স্তম্ভিত বিসমিল্লাহ’র পালিত কন্যা সোমা ঘোষ। তিনি বলেন, “ওটা তো শুধু একটা ঘর নয়, আবিশ্ব সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে একটা পুজোর জায়গা। আমি আবেদন জানাচ্ছি, এই ঐতিহ্যবাহী ঘরের সমস্ত সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য অনুমতি দিতে”

এই বাড়িটির মালিকানা বর্তমানে বিসমিল্লাহ পুত্র মেহতাব হোসেনের পাঁচ সন্তানের। বিসমিল্লাহ’র কনিষ্ঠ পুত্র নাজিম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি সমস্ত ঘটনা জানতে পারি ১৪ আগস্ট। উত্তরপ্রদেশে ফিরে সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান লালকেল্লা থেকে সানাই বাজিয়েছিলেন। তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনের অনুরাগীর সংখ্যা কম ছিল না।কিন্তু তাদের কেউই হাদহা সরাইয়ের ভিক্ষমশাহ লেনের বাড়িটি বাঁচাতে পারেনি।

অনেকেই অবশ্য বলছে এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। কারণ উস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের মূল্য বুঝতে পারেনি তার পরিবার, বোঝেনি ক্ষমতাসীন ভারত সরকারও। একথা আগেও প্রমাণিত, ২০১৭ সালে ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে বিসমিল্লাহ’র চারটি মহামূল্যবান সানাই বিক্রি করে দেন উস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের নাতি। এর মধ্যে তিনটি সানাই ছিল রুপার তৈরি।

সুত্র: News18 Bengali