শোকাবহ আগষ্টে লাল গালিচায় শিক্ষা উপ-মন্ত্রীকে বরণ, তোলপাড়!

১৪ই Auguই, ২০২০ || ১২:০৫:৪১
54
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
গত ১০ আগষ্ট কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পরিদর্শনে যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তার এ পরিদর্শন উপলক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোরাদ হোসেন মোল্লা বোর্ডকে বর্ণিল সাজে সাজান, লাল গালিচায় তাকে বরণ করার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু উপ-মন্ত্রী উপস্থিত হয়ে এই দৃশ্য দেখে তিরস্কার করেন চেয়ারম্যান মোরাদ মোল্লাকে এমনটাই জানিয়েছেন ওই সময় উপস্থিত বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা।

যেখানে এই শোকাবহ আগষ্টে জাতীর পিতা ও তাঁর পরিবারকে হারানোর ব্যাথায় জাতি যেখানে শোকবিহ্বল সেখানে একটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের এই কান্ডে চরম ক্ষুব্ধ, হতাশ ও হতবাক হয়েছেন উপস্থিত উপ-মন্ত্রী, সচিবসহ বোর্ডের অন্যন্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

শিক্ষা উপ-মন্ত্রী’র পরিদর্শন উপলক্ষে বোর্ডকে বর্ণিল সাজে সাজান, লাল গালিচায় বরণ করার ব্যবস্থা করেন চেয়ারম্যান মোরাদ মোল্লা

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সরকার যে স্বপ্ন দেখছে তা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা এই অযোগ্য চেয়ারম্যান। কারিগরি বোর্ড সুত্রে জানা যায়, মোটা অংকের লেনদেনের বিনিময়ে গ্রেডেশন তালিকার সবার শেষে অবস্থান করেও চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসেন মোরাদ মোল্লা।
বর্তমান চেয়ারম্যান পূ্র্বেও বোর্ডে কর্মরত ছিলেন তখনও তার বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিজিট করতে গিয়েও সম্মানীর নামে নিতেন অর্থ।

জানা যায়, বর্তমান চেয়ারম্যান বোর্ডের কিছু অসাধু ও দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার সিন্ডিকেটের মূলহোতা ডেপুটেশনে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ফেরদাউছুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শুশীল কুমার পাল, উপ-সচিব আবুল হোসেন।

বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ফেরদৌস সাহেবের অত্যাচারে আমরা খুবই খারাপ সময় পার করছি। কথিত আছে ফেরদৌস সাহেবের কথাতেই নাকি চলেন চেয়ারম্যান মোরাদ মোল্লা। মোরাদ মোল্লার গাড়িতে করে ফেরদৌস সাহেবকে বাসায় নামিয়ে চেয়ারম্যান বাসায় ফেরেন মর্মেও অভিযোগ করেন কিছু কর্মকর্তা। এ জন্য বোর্ডের ছায়া চেয়ারম্যান হিসেবেও অনেকে আখ্যা দিয়েছেন তাকে।

ফেরদাউছুর রহমানের এত ক্ষমতার উৎস সম্পর্কে বোর্ডের একজন অফিসার বলেন, অফিসার্স ক্লাবের সদ্য নির্বাচিত একজন অতিরিক্ত সচিবের নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন তিনি।

অযোগ্যদের যোগ্যতম স্থানে বসানোয় চাপা ক্ষোভ রয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। যারই ফলে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এসব যেন প্রকাশ না পায় সে জন্য মন্ত্রী’র আগমন উপলক্ষে বোর্ডের সবাইকে ম্যানেজ করতে ও সন্তুষ্ট করতে চেয়ারম্যান সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপঢৌকন হিসেবে সম্মানি দেওয়ার উদ্যোগ নেন। যা গতকাল বিভিন্ন মিডিয়ায় আসায় নিজেকে বাচাতে আজ থেকে মাস্টাররোল ও ডেইলি বেসিসে কর্মরত কর্মচারীদের থেকে টাকা ফেরত নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন বোর্ডের কর্মচারী-কর্মকর্তা।